আমরা এবার সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আগে যে স্ট্রাইকিং ফোর্স ছিল, উইদাউট স্ট্রাইক। প্রয়োজনের সময় নাম দিয়েছিল স্ট্রাইকিং ফোর্স। আগে আমরা তিনটা নির্বাচনে দেখেছি তো। দে আর নেভার স্ট্রাইক, দেখানোর জন্য করেছে। কিন্তু এবার স্ট্রাইক করা হবে। আমাদের সেনাবাহিনী যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞার ভেতরে অন্তর্ভুক্ত হয়, সে উদ্যোগ নিয়েছি। সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, সবাইকে আমরা ইনভলভ করবো। সব বাহিনী সম্পৃক্ত থাকবে।’
শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহী আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এ সময় সিইসির কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধু একটা দুঃসংবাদ দিতে চাই- যারা ভোটকেন্দ্র দখল করার জন্য নিয়ত করে বসে আছেন, বাক্স দখল করার জন্য নিয়ত করে আছেন, তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হবে। আপনারা এই ইতিহাস ভুলে যান। ভোটকেন্দ্র দখলের ইতিহাস ভুলে যান। ভোটের বাক্স দখলের নিয়ত যদি থেকে থাকে, দয়া করে সরে আসুন এই নিয়ত থেকে। আমরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে থাকবো এবার ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। তারা ঘুঘু দেখেছে, ফাঁদ দেখে নাই। এবার ফাঁদ দেখবে তারা, যারা মনে করবে কেন্দ্র দখল করে জিতবো, বাক্স দখল করে জিতবো। সেই সুযোগ ইনশাআল্লাহ তারা পাবে না। এখানে আমরা দেশবাসীকে সাথে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এবং আপনাদের (গণমাধ্যমকর্মী) সাথে নিয়ে আমরা এই কাজটা সারবো ইনশাআল্লাহ।’
‘আমরা সেভাবেই কাজ করছি। প্রত্যেকটা অফিসারকে সেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছি। আগে যে ধরনের হুকুম যেত; আমাদের হুকুম যাবে অ্যাজ পার ল, আমাদের হুকুম যাবে অ্যাজ পার রুল। একদম নিরপেক্ষভাবে, যাতে আমাদের অফিসাররা কাজ করেন, সেই নির্দেশনা থাকবে। অন্যায় কোনো হুকুম আমাদের তরফ থেকে যাবে না। অন্যায় কোনো আবদার আমরা কারও কাছ থেকে শুনবো না।’
অবৈধ অস্ত্রধারীদেরও হুঁশিয়ারি দিয়ে সিইসি বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলমান প্রক্রিয়া। অভিযান এখনও চলছে, ভোটের আগে জোরেশোরে চলবে। যারা অস্ত্রবাজি করার নিয়ত করেছেন, আপনাদের জন্য অত্যন্ত দুঃসংবাদ। যারা অস্ত্রবাজি করে ভোটে জিততে চাইবেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে। অস্ত্র উদ্ধারের একটা অভিযান চলবে।’
বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোট জালিয়াতিতে জড়িত নির্বাচন কর্মকর্তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ভাই, আমার তো ৫ হাজার ৭০০ কর্মকর্তা। কোথায় পাঠিয়ে দেবো এদের! তাদের মধ্যে যারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে স্বউদ্যোগে ভোট জালিয়াতিতে জড়িত ছিল, তাদের তো অবশ্যই দায়িত্বে রাখবো না।’
বর্তমান সরকারের অবস্থান কি, এমন প্রশ্নে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এই সরকার তো এ পর্যন্ত চায়নি। আমাদের বলতে দ্বিধা নাই, যেদিন সরকার চাইবে, সেদিন নাসির উদ্দিন এই চেয়ারে থাকবে না। এটা ধরে রাখেন। যদি সরকার চাইবে তার হুকুম মতো কাজ করতে, আমাকে এই চেয়ারে দেখবেন না আপনারা। সেই গ্যারান্টি আমি দিতে পারি।’
ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা হলে পুরো আসনেরই ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আপনারা তো জানেন পুরো আসনের ভোট ক্যানসেল করার জন্য বিধান আমরা করছি। ক্যানসেল করে দেবো, যদি অনিয়ম দেখি। যদি দেখি কেউ কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেছে, পুরো আসনের ভোট ক্যানসেল করে দেবো। সুতরাং, একটা সুষ্ঠু, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য জাতিকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যতক্ষণ আমাদের সেন্স আছে, সর্বশক্তি দিয়ে নিরপেক্ষভাবে এবং পেশাগত দক্ষতার সাথে আমরা এটা মোকাবিলা করবো।’
পরে সেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

