অবশেষে শুরু হলো রাজশাহীর বহুল প্রতীক্ষিত আমের মৌসুম। প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে শুক্রবার থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন বাগানে গুটি আম পাড়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর বাজারেও উঠতে শুরু করেছে মৌসুমের প্রথম আম। তবে চাষি ও ব্যবসায়ীদের একাংশ বলছেন, এখনও অধিকাংশ বাগানের আম পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি। তাই আপাতত সীমিত পরিসরেই চলছে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ।
শুক্রবার সকাল থেকেই পুঠিয়ার বানেশ্বর, শাহাবাজপুর, নামাজগ্রাম, খুটিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায় আম পাড়ার ব্যস্ততা। কোথাও শ্রমিকেরা গাছে উঠে আম সংগ্রহ করছেন, আবার কোথাও ব্যবসায়ীরাই সরাসরি বাগান থেকে আম নামাচ্ছেন। মৌসুমের শুরুতেই যাতে কাঁচা আম বাজারে না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন চাষিরা।
স্থানীয় আম ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন,“প্রশাসনের নির্দেশনা মেনেই আজ থেকে গুটি আম নামানো শুরু করেছি। তবে প্রথম দিন খুব বেশি আম তুলছি না। এখনও অনেক বাগানের আম পুরোপুরি পাকেনি। কাল বানেশ্বর হাটে কিছু আম নিয়ে যাব। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়বে।”
একই কথা জানান চারঘাট উপজেলার শলুয়া এলাকার আমচাষি শাহিন। তিনি বলেন,“গুটি আম উঠতে শুরু করলেও আসল মৌসুম শুরু হতে এখনও কয়েক দিন বাকি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খুব দ্রুতই অন্যান্য জাতের আমও পাকতে শুরু করবে।”
প্রতি বছরের মতো এবারও অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। কৃষি বিভাগের মতে, এতে একদিকে যেমন ভোক্তারা নিরাপদ ও মানসম্মত আম পাবেন, অন্যদিকে চাষিরাও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন।
জেলা প্রশাসনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২২ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে রানিপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর ও খিরসাপাত ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাঙ্গো ১৫ জুন থেকে আম্রপালি ও ফজলি আম সংগ্রহ করা যাবে।
এ ছাড়া, ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা, ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি আম বাজারজাতের অনুমতি দেওয়া হবে।
তবে কাটিমন ও বারি আম-১১ জাতের আম সারা বছরই সংগ্রহ করা সম্ভব বলে জানিয়েছে Department of Agricultural Extension।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় প্রায় ১৯ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন। সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটিরও বেশি। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবার আমের ভালো ফলন ও ব্যবসার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজশাহীর আম দেশের অন্যতম সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফল হিসেবে পরিচিত। তাই মৌসুমের শুরুতেই মান বজায় রেখে বাজারজাতের বিষয়ে প্রশাসন ও চাষিদের এই সতর্কতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ক্রেতারাও।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

