নতুন চাকরির আনন্দ নিয়ে ফেরা হলো না আনোয়ারের

নতুন চাকরির আনন্দ নিয়ে ফেরা হলো না আনোয়ারের

নতুন চাকরি পেয়েছেন। বুকভরা স্বপ্ন আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আনোয়ার হোসেন (৩০)। পরিবারের লোকজনও ছিল সেই অপেক্ষায়। আনোয়ারের বাড়ি ফেরার সেই আনন্দ নিমিশেই শেষ হয়ে গেলো এক সড়ক দুর্ঘটনায়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে বড়াইগ্রামে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ হারান আনোয়ার। এ দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে আরো কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

আনোয়ার রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার চাঁইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। চাকুর পাওয়ার আনন্দ নিয়েই পরিবারের কাছে ফিরছিলেন। মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে ছিলেন সেই আনন্দের কথা। আনোয়ার বাড়ি ফিরছেন ঠিকই তবে হাসি মুখে নয় কফিনে বন্ধি বাক্সে।

আনোয়ারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগমারার চাঁইপাড়া গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া। যে বাড়িতে তাকে ঘিরে আনন্দের অপেক্ষা ছিল, সেই বাড়িতেই শুরু হয় স্বজনদের আহাজারি। মা-বাবার কাছে সন্তানের ফিরে আসার অপেক্ষা পরিণত হয় চিরবিচ্ছেদের বেদনায়।

আনোয়ারের স্ত্রী ফাতেমা বিবি দুই সন্তানকে নিয়ে উপজেলার কোনোপাড়া গ্রামে বাবার বাড়িতে ছিলেন। সেখানেই স্বামীর মৃত্যুর খবর পান তিনি। যে মানুষটির ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।শোকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তিনি। বাবা হারানো সন্তানদের ভবিষ্যৎ আর সংসারের অনিশ্চয়তা যেন তার শোককে আরো ভারী করে তুলেছিল।

একটি নতুন চাকরি ঘিরে আনোয়ারের পরিবারে ছিল নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল।

বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আনোয়ারের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। লাশ হস্তান্তরের জন্য থানা-পুলিশ বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন