আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

অতিথি পাখির কলতানে মুখর সাপাহার জবই বিল

আব্দুল্লাহ আনছারী, সাপাহার (নওগাঁ)

অতিথি পাখির কলতানে মুখর সাপাহার জবই বিল

নওগাঁ জেলার সীমান্তের পার্শ্ববর্তী উপজেলা সাপাহার। উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৯ কিমি পশ্চিমে গেলে দেখা মিলবে দৃষ্টিনন্দন জবই বিল। শীত শেষ হলেও জবই বিল মুখর নানা দেশ থেকে আসা অতিথি পাখির কলতানে।

প্রতিনিয়ত খাবারের খোঁজে ও শীত নিবারণের জন্য জবই বিলে ঝাঁক বেঁধে আসছে অতিথি পাখি। ঐতিহ্যবাহী এই বিলটি যেন হাজার হাজার অতিথি পাখির নিরাপদ বিচরণভূমি, যা অত্যন্ত মনমুগ্ধকর এক প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বিলের পানি কমতে শুরু করার ফলে প্রতি বছর শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির হাজারো নতুন পাখির আনাগোনা শুরু হয় জবই বিলে। জবই বিল ও পার্শ্ববর্তী পুনর্ভবা নদীতে জলকেলিতে মুখরিত পরিবেশ যেন এক অপূর্ব দৃষ্টিনন্দিত স্থানে পরিণত করেছে। এসব স্থানে এই পাখিরা দিন-রাত বিচরণ করছে। প্রতিদিন পাখির কিচিরমিচির শব্দে আর কলকাকলিতে বিমুগ্ধ হচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।

জবই বিল ও পুনর্ভবা নদীতে অতিথি পাখিদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার থাকার ফলে প্রতি বছর শীত মৌসুমের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছুটে আসে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে হাজার হাজার পাখি, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাখি হলো শামুকখোল, সাদা বক, বালিহাঁস, চাহা, রাজহাঁস, পাতি সরালীসহ নানা প্রজাতির নাম না জানা পাখি। পাখির কলতানে সারাক্ষণ মুখর থাকে পুরো বিল এলাকা। মূলত এই বিলের ছোট ছোট মাছ আর শামুকই পাখির প্রধান খাবার।

জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি সোহানুর রহমান সবুজ জানান, বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই বিলে পাতি সরালি, লালঝুটি ভুতিহাঁস, গিরিয়া হাঁস, তিলি হাঁস, টিকি হাঁস, পিয়াং হাঁস, ঠেঙ্গি হাঁস, চা পাখি, বেগুনি বক, বাজলা বক, শামুকখোল, মাছমুরাল, সাপ পাখি, চখা-চখি, হরেক রকম হাঁসের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বিলটি পাখির সমাহারে সারা বিল ভরে উঠবে।

তাদের জরিপে ২৬ ধরনের পরিযায়ী পাখি এবং ১৮ ধরনের দেশি পাখি মিলিয়ে মোট ৪৪ প্রজাতির পাখি পাওয়া যায়। এই বিলে দেশি-বিদেশি মোট পাখির সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ২৫৮টি। জরিপে আরো বলা হয়, আগের বছর পাখির সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ হাজার। বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রজাতি বেড়েছে, সংখ্যা কমেছে। জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংস্থার সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান এটি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী আরো জানান, বর্ষার শেষ ভাগে বিলে পানি কমতে শুরু করায় ফসলি আবাদি জমি পানির নিচ থেকে বের হয়ে আসে আর ওসব জমিতে স্বল্প পরিমাণ পানি থাকায় ছোট মাছ, শামুক ও পোকামাকড়ের আমদানি বেশি হয়। সেসব খাওয়ার জন্য নানা ধরনের পাখি ঝাঁক বেঁধে ছুটে আসে এই জবই বিলে। যার ফলস্বরূপ জবই বিল এলাকা হয়ে ওঠে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক লীলার এক অভয়াশ্রম। এসব অতিথি পাখি যাতে কোনো শিকারির কবলে না পড়ে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমনটাই আশা করছেন এলাকার প্রকৃতিপ্রেমীরা।

অপরদিকে সাপাহার উপজেলার জবই বিলটিকে একটি ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা ও সারা বছর বিলে নিরাপদে পাখির বসবাসের জন্য একটি অংশ সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে সেখানে সরকারিভাবে বিলের নির্দিষ্ট একটি অংশে অভয়ারণ্য নির্মাণের জোর দাবি করেছেন দর্শনার্থী ও পাখিপ্রেমীরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন