অব্যাহত লোকসানের কারণে ২০০২ সালের ৩০ জুন বন্ধ হয়ে যায় আদমজী পাটকল। পাটকলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এর পরিত্যক্ত যন্ত্র দিয়েই নবযাত্রা শুরু করেন বগুড়ার ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ আদমজী থেকে তাঁত যন্ত্রপাতি কিনে কারখানা চালু করলেও অনেকে ভারত ও চীন থেকে তাঁত এনে কারখানা স্থাপন করেছিলেন।
বর্তমানে জেলায় ১৭টি পাটকল থাকলেও নানা সংকটে বন্ধের পথে এসবের উৎপাদন। গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় বর্তমানে ১৩টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বাকি চারটি চলছে ধীরগতিতে।
পাটকল মালিকরা জানান, কারখানায় আগে ১০ হাজারের মতো লোকের কর্মসংস্থান ছিল। এর মধ্যে অর্ধেক কর্মচারীই নারী। এখন পুরুষ শ্রমিকরা অটোরিকশা চালাচ্ছেন। তাই নারী কর্মীই একমাত্র ভরসা।
তারা আরো জানান, প্রতিটি কারখানায় গড়ে ১০ টন সুতলি ও বস্তা তৈরি হচ্ছে। এসব কলে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ মণ কাঁচা পাট লাগে। বর্তমানে অর্থনৈতিক সমস্যা, শ্রমিক সংকট আর ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় কারখানা চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, এসব পাটকলে উৎপাদিত বস্তা ভারত, জার্মানি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তুরস্কে রপ্তানি হয় । দেশগুলোর আমদানিকারকদের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী বস্তা তৈরি করা হয় বলে জানান মালিকরা।
কারখানার কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শ্রমিক সংকট প্রকট। এক সময় ৮ ঘণ্টা করে তিন শিফটে কাজ করা হতো। মাসে দুই হাজার মণ সুতলি ও এক লাখ পিস বস্তা তৈরি হতো। এখন তা অনেক কমে গেছে।
তারা জানান, গত এক মাসের মধ্যে প্রতি মণ পাটের দাম ৩৬০০ টাকা হতে ৪৬০০ টাকা উঠেছে। অথচ বস্তার দাম বাড়েনি। ১১০০ গ্রাম বস্তা এখন ১৩৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন শ্রমিক বলেন, তাদের মজুরি খুবই কম। দিনে ৮ ঘণ্টা কাজ করে তারা ২২০ থেকে ২৫০ টাকা আয় করেন।
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত
বর্তমানে লোডশেডিংয়ের ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় কারখানাগুলোতে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। গত দুই মাসে সমস্যা একটু কমলেও আগের ছয় মাস অধিকাংশ সময়ই কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানা গেছে। পাটকল মালিকরা জানান, বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাওয়া গেলে বগুড়ায় আরো পাটকল হওয়ার মতো বাস্তবতা আছে।
কিন্তু গ্যাসের ব্যাপারে সরকারের কাছ থেকে কোনো সবুজ সংকেত নেই বলে নতুন পাটকল স্থাপনে আগ্রহ নেই তাদের। এদিকে চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য আমদানিতে ভারত নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় সংকট আরো প্রকট হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।
বগুড়া ভাণ্ডার পাটকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাজি তোফাজ্জল বলেন, তিনি ভারতীয় যন্ত্রপাতিতে কারখানা স্থাপন করেন এবং পাটপণ্য রপ্তানিও করতেন ভারতে। সেটিও এখন বন্ধ। তার কারখানায় ৮০০ শ্রমিক কাজ করতেন। সেখানেও এখন শ্রমিক কমে গেছে।
জানতে চাইলে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহ-সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু আমার দেশকে বলেন, অন্য পাটকলগুলো যেখানে প্রতি বছর লোকসান গুনছে, সেখানে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পাটকলগুলো উন্নতি করছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, জেলার পাটকলগুলো চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি পাট কিনছে। এতে চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন এবং পাট চাষে উৎসাহী হচ্ছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

