বগুড়ার ধুনট থানার প্রত্যাহারকৃত উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজার রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রবাসীর স্ত্রীকে মুঠোফোনে কুপ্রস্তাব দেওয়ার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী ও তার মায়ের মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী স্থানীয় একটি প্রতারক দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রায় ছয় মাস আগে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে যান। সেখানে যাওয়ার পর দালাল চক্রের সদস্যরা তাকে কোনো কাজের ব্যবস্থা করে দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রবাসীর মা দালালদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। পরে গত ২১ জুন তিনি চিহ্নিত দুই দালালের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্তের সময় এসআই মোস্তাফিজার রহমান প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে কথা বলেন এবং স্বামীর সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগী নারী কৌশলে কথোপকথনের অংশ রেকর্ড করেন।
পরবর্তীতে ওই অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগী প্রবাসীর মা বলেন, “এসআই মোস্তাফিজার রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি আমাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি দুই আদম ব্যবসায়ীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”
পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

