পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। একে কেন্দ্র করে এ আসনে একই পরিবারের তিন ভাই-বোন তিন মেরুতে অবস্থান করছেন। তারা হলেন- চাটমোহর উপজেলা বিএনপির প্রয়াত নেতা হাজী আক্কাছ আলী মাস্টারের বড় ছেলে হাসানুল ইসলাম রাজা, সেজো ছেলে মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা এবং বড় মেয়ে অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমা।
তাদের একজন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, বিশিষ্ট সমাজসেবক হাসানুল ইসলাম রাজা। ইতোমধ্যে তিনি পাবনা-৩ আসনে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চব্বিশের ৫ আগস্টের পরবর্তী বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে প্রচার শুরু করেন তিনি। এ অবস্থায় আসনটি থেকে কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন।
এদিকে চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র মো. হাসাদুল ইসলাম হীরা দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত সব আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে এসেছেন। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীকে সংগঠিত করতে তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আন্দোলন সংগ্রামের কারণে একাধিক মামলার শিকার হয়ে জেলে যেতে হয়েছে। তিনি বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালালেও হাসান জাফির তুহিনকে দল থেকে মনোনয়ন দিলে তার কর্মী-সমর্থকরা প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন।
অপরদিকে পরিবারের আরেক সদস্য অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমা ৯০’র দশক থেকে ঢাকায় প্রথমে ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদল এবং পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য থাকার সময় আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে আওয়ামী সরকারের দায়ের করা একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাবাস করেছেন। চাটমোহরের স্থানীয় রাজনীতিতেও তার একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। তিনি আগামী সংসদ নির্বাচনে এমপি মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে মনোনয়ন দিলে রুমা তাকে সমর্থন দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে তিন ভাই-বোন তিন মেরুতে অবস্থান করার কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ আসনে একই পরিবারের তিনজন ছাড়াও সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য কেএম আনোয়ারুল ইসলাম দুবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, তিনিও আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দল তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় তিনি হাসাদুল ইসলাম হীরার সঙ্গে যৌথভাবে হাসান জাফির তুহিনের মনোনয়ন পরিবর্তন করে স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
এসব কারণে চাটমোহরে বিএনপির রাজনীতিতে প্রকাশ্যে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। আনোয়ারুল-হীরা সম্প্রতি একাধিক মশাল মিছিল থেকে ঘোষণা দিয়েছেন, পাবনা-৩ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন না হলে তাদের মধ্যে যে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিবেন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া এবং ফরিদপুর উপজেলায় মোট ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৬২ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে চাটমোহর উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৪১ জন। পুরুষ এক লাখ ২৮ হাজার ৬৪৬ জন এবং মহিলা এক লাখ ২৮ হাজার ১৯৫ জন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মোট ভোটার এক লাখ ৮ হাজার ৭৭৮। এর মধ্যে পুরুষ ৫৪ হাজার ২৬২ জন ও মহিলা ভোটার ৫৪ হাজার ৫১৩ জন।
ফরিদপুর উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৩শ ৪৩ জন। পুরুষ ৫৮ হাজার ১৮৩ জন ও মহিলা ৫৮ হাজার ১৫৬ জন।
তবে আসনটিতে ধানের শীষের বিরুদ্ধে স্থানীয় কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলে পাল্টে যেতে পারে সব হিসাব-নিকাশ।


চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ব্লকেড, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ
আফগানদের ভিসা দেয়া বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র