জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মসজিদে তালা

উপজেলা প্রতিনিধি, ধামইরহাট (নওগাঁ)

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মসজিদে তালা

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় গাংরা চৌধুরীপাড়া জামে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মসজিদ কমিটির সভাপতি মাজেদুর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

ব্যক্তিগত ও জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়কে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের সামনে দিয়ে গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের রাস্তা নিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে মসজিদ কমিটির সভাপতি মাজেদুর রহমান চৌধুরীর বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই রাস্তা ব্যবহারকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা বাগ্‌বিতণ্ডা হলেও সম্প্রতি বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ উঠেছে, বিরোধের একপর্যায়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে মুসল্লিরা নির্ধারিত সময়ে মসজিদে প্রবেশ করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঘটনার দিন ফজরের নামাজ আদায় করতে এসে মুসল্লিরা মসজিদের প্রধান ফটকে তালা দেখতে পান। পরে খবর দ্রুত পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, মসজিদ কমিটির সভাপতি মাজেদুর রহমানের পিতা মৃত আজিজ চৌধুরী ওই রাস্তা এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে বিরোধ থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছিল। কিন্তু হঠাৎ মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। তালা লাগানোকে কেন্দ্র করে ফজর ও যোহরের নামাজ মসজিদে আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শুভ জানান, ‘আমি জন্মের পর থেকে মসজিদের সামনের রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে আসছি। হঠাৎ মসজিদ কমিটির সভাপতি এলাকাবাসীদের যাতায়াত করার রাস্তায় টিন দিয়ে দখলে নেবার চেষ্টা করেন। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।’

মসজিদের মুয়াজ্জিন জামাল হোসেন বলেন, ‘আমি ফজরের সময়ে মসজিদে এসে দেখি তালা ঝুলানো রয়েছে। আমি মসজিদের বাহিরে থেকে ফজর ও যোহরের আযান দিয়ে বাড়িতে গিয়ে নামাজ আদায় করেছি। তবে অভিযুক্ত মসজিদ কমিটির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে তার বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে চাইলে তার পরিবারের কেউ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। পাশাপাশি তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় মসজিদটি পুনরায় মুসল্লিদের নামাজের জন্য আগের অবস্থানে ফেরানো হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন