জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ওর্য়াড বিএনপির এক নেতা ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাহত করার অভিযোগ উঠেছে। তারা আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত উপজেলা জিয়া পরিষদের নেতা আতিয়ার রহমান সুমনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি হয়েছেন।
শুক্রবার রাত আটটার পর রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের চক রোয়াইড গ্রামের মোড় আজাদুলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছুরিকাহতের ঘটনায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন ও জিয়া পরিষদের নেতা আতিয়ার রহমানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।
বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনের দাবি- প্রায় এক মাস ধরে থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছিল। ওই জমিতে অবাধে ট্র্যাক্টর যাতায়াত করায় গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে গ্রামবাসীর পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করায় আতিয়ার তাকে ও তার স্ত্রীকে ছুরিকাহত করা হয়েছে। আতিয়ার রহমানের ছত্রছায়ায় ফসলি জমি খুঁড়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
তবে জিয়া পরিষদের নেতা আতিয়ার রহমানের দাবি- তিনি জমি থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নন। আলমগীর হোসেন গ্রামে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক কারবারির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এতে প্রতিবাদ করায় আলমগীর হোসেন তাঁর ওপর হামলা করেছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর হোসেন আলম (৪৭) ও তাঁর স্ত্রী মাহবুবা খাতুন (৪২) ও অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান তাদের বাড়ি রোয়াইড গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোয়াইড গ্রামের একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি খুঁড়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এ ঘটনাটি গ্রামের লোকজন থানা-পুলিশকে জানায়। সোমবার রাতে পুলিশ গিয়ে বালুর ট্র্যাক্টর আটকে দেয়।
পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও বালুর ট্র্যাক্টর চলাচল করে। বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন গ্রামের লোকজনের পক্ষ নেন। তারা এ ঘটনাটি উপজেলা বিএনপির নেতাদের জানান। গত বুধবার গ্রামের লোকজন এসে উপজেলা বিএনপির নেতাদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলে চলে যান।
শনিবার বিকেল রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ছোয়াতের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ছিল। আলমগীর হোসেন শুক্রবার রাতে গ্রামের লোকজনদের শনিবার বিকেলের বৈঠকে বসার কথা জানাতে বের হন। এ সময় চক রোয়াইড় আজাদুলের দোকানের সামনে আলমগীর হোসেন সঙ্গে আতিয়ার রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আলমগীর ও তাঁর স্ত্রী ছুরিকাহত হন। গ্রামের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে রাত নয়টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। পরে আতিয়ার রহমানও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরি বিভাগে এসে চিকিৎসা নেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন আছেন।
শনিবার সকাল দশটায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে দেখা যায়, আলমগীর হোসেন ও আতিয়ার রহমান পাশাপাশি দুটি ওর্য়াডে ভর্তি আছেন। আলমগীর হোসেনের মাথায় বান্ডেজ ও আতিয়ার রহমান বাম হাতে আঘাত পেয়েছেন।
তিনি গজ দিয়ে বাম হাত ঝুলানো আছে।
বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন বলেন, আমি গরু কেনা-বেচার ব্যবসা করি। আতিয়ার রহমান আমার কাছে এক লাখ টাকার চাঁদা চেয়েছিল। আমি তাঁকে চাঁদা দেইনি। এ নিয়ে আতিয়ার আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। মাস খানেক আগে থেকেই গ্রামের মারুফের জমি খনন করে মাটি ও বালু উত্তোলন করে নবাবের ইটের ভাটায় বিক্রি করছিল। জমিতে ট্র্যাক্টর চলাচল করায় গ্রামের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে গ্রামের লোকজন বাধা দেন।
পুলিশ এসেও বালু উত্তোলন বন্ধ করতে পারেনি। গত বুধবার তাকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের লোকজন উপজেলা নেতাদের কাছে গিয়েছিল। শনিবার বিকেলে রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলামের সঙ্গে দুই পক্ষের বসা কথা ছিল। তিনি গ্রামের লোকজন বৈঠকের বসা জানাতে বের হন। এ সময় আতিয়ার রহমান আমাকে ছুরিকাহত করেন। আমার স্ত্রী আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে তাকেও ছুরিকাহত করা হয়। আমার স্ত্রীর চোখের পাশে লেগেছে।
আতিয়ার রহমান বলেন, আলমগীর হোসেন মাদকের ব্যবসা করেন। গত এপ্রিল মাসে আমরা তাকে মাদকের ব্যবসা করতে নিষেধ করেছি। এতে আলমগীর আমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। শুক্রবার রাতে গ্রামের বাড়িতে গেলে আলমগীর আমাকে মারধর করেন। এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি বালু উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত নন বলে জানিয়েছেন।
রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম ছোয়াত বলেন, বালু উত্তোলন নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছিল। আজকে দুই পক্ষ নিয়ে বসার কথা ছিল। তার আগে শুক্রবার রাতে দুই পক্ষ বিবাদে জড়িয়েছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান মাসুদ বলেন, ছুরিকাহতের ঘটনাটি শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

