আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সিরাজগঞ্জে ৬টি আসনে জামানত হারালেন ২৭ প্রার্থী

জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে ৬টি আসনে জামানত হারালেন ২৭ প্রার্থী

সিরাজগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনে ২৭ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত মনোনীত প্রার্থীসহ মোট ৩৯ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে বিএনপি পাঁচটিতে এবং জামায়াত ইসলামী একটিতে জয় পেয়েছেন। ২৭ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর-সদর আংশিক)

এই আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহিনুর আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮১৫ ভোট। জামানত হারিয়েছেন চার প্রার্থী। এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির জহুরুল ইসলাম লাঙ্গন প্রতিকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩৪ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মল্লিকা খাতুন ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৭০ ভোট, নাগরিক ঐক্যের নাজমুস সাকিব কেটলি প্রতিকে পেয়েছেন ৩২ ভোট ও স্বতন্ত্র আব্দুস সবুর ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৬৩ ভোট।

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ)

এই আসনে সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৭ ভোট।

জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে পাঁচজন প্রার্থীর। এরা হলেন, সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ মনোনীত প্রার্থী এস. এম আব্দুল্লাহ আল মামুন মই প্রতীকে পেয়েছেন ৮৬৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুহিবুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ ভোট, জনতার দলের সোহেল রানা কলম প্রতীকে পেয়েছেন ১৮২ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন কাস্তে প্রতিকে পেয়েছেন ৭৬৯ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ট্রাক প্রতিকে পেয়েছেন ৪১০ ভোট।

সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ)

এই আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আয়নুল হক। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ ভোট পয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মুহা: আব্দুর রউফ সরকার রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৩ ভোট। জাতীয় পার্টির ফজলুল হক লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ৬৫৮ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াছ রেজা রবিন ঘোড়া প্রর্তীকে হাজার ৬ ভোট পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া)

এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ধানের শীষ প্রতীকের এম. আকবর আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট। এ আসনে তিনজন প্রাথীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এরা হলেন জাতীয় পার্টির হিল্টন প্রামাণিক। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ২১৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ২ হাজার ২১৬ ভোট ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আব্দুল হাকিম কাস্তে প্রতীকে ৬৯৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালী)

তাঁত সমৃদ্ধ এই আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলীম ধানের শীর্ষ প্রতিকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আলী আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৬ হাজার ৮০৫ ভোট পেয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের নুরুন নবী হাতপাখা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৫৯ ভোট, জাতীয় পার্টির আকবার হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ২২৪ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মতিয়ার রহমান কাস্তে প্রতীকে ৩২৮ ভোট ও গণ অধিকার পরিষদের ইউসুফ আলী ট্রাক প্রতীকে ২৩৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর)

জেলার মধ্যে সব চেয়ে বেশি প্রার্থী ছিলো এই আসনে। মোট ১১ জন প্রার্থী এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মুহিত বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি এস, এম সাইফ মোস্তাফিজ শাপলা কলি প্রতীকের পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৮২৪ ভোট। বাকী নয়জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

এরা হলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. মোশারফ হোসেন শহিদুল মোমবাতি প্রতীকে ১ হাজার ১৩০ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মিসবাহ উদ্দিন হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট, জাতীয় পার্টির মোক্তার হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ৯৮ ভোট, সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের এ্যাড. আনোয়ার হোসেন মই প্রতীকে ৪০০ ভোট, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ইলোরা খাতুন তারা প্রতীকে ৮৯০ ভোট, আম জনতার দলের আসাদুল হক প্রজাপতি প্রতীকে ৬৫৩ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টির আবু জাফর মো. আনোয়ারুস সাদাত ঈগল প্রতীকে ২৭১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ন কবির ঘোড়া প্রতীকে ৪৪১ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ওয়াসেফ ইকবাল খান মজলিস হেলিকপ্টার প্রতীকে ২৫২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন