রাজশাহীর তানোরে চলতি মৌসুমে আলুর দাম আরো কমে গেছে। নতুন আলু অনেক জায়গায় প্রতি কেজি ৮ থেকে ৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; কোথাও কোথাও ৮ টাকারও নিচে লেনদেন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত ৫ কেজি করে ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য হওয়ায় লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে।
উপজেলার আলুচাষি রায়হান কবির বলেন, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করে তিনি ৪০ থেকে ৪৫ বস্তা (প্রতি বস্তা ৬০ কেজি) ফলন পেয়েছেন। বাজারে প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায়। এতে বিঘাপ্রতি ২২ থেকে ২৮ হাজার টাকা আয় হলেও উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। ফলে বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে।
মেজবাউল নামের আরেক চাষি বলেন, ‘আড়াই বিঘা জমিতে আলু চাষে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু বিক্রি করে পাওয়া গেছে ২৫ হাজার টাকার মতো। তাঁর ভাষায়, “এভাবে চললে ঋণ শোধ করা কঠিন হয়ে যাবে।’
কৃষকদের অভিযোগ, ‘মাঠ থেকে ৭০ কেজির বস্তা তোলা হলেও ৬৫ কেজির দাম দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় ৫ কেজি করে অতিরিক্ত আলু দিতে হচ্ছে ‘ঢলন’ হিসেবে। এতে বিঘাপ্রতি প্রায় ২৫০ কেজি আলু অতিরিক্ত চলে যাচ্ছে, যার বাজারমূল্য কয়েক হাজার টাকা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন ও সংরক্ষণের সময় স্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় অতিরিক্ত আলু নেওয়া হয়।’
কৃষকেরা জানান, এখনো পুরোপুরি আলু তোলা শুরু হয়নি। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে রহিমাডাঙ্গা বিল এলাকায় আলু ওঠা শুরু হয়। তখন কেজিপ্রতি দাম ছিল সাড়ে ৯ টাকা; বর্তমানে তা কমে ৮ টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে। জমি লিজ ও বীজের দাম কিছুটা কম থাকলেও সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, এ বছর উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ হেক্টরের আলু তোলা হয়েছে এবং ফলন মোটামুটি সন্তোষজনক। তিনি বলেন, কৃষকেরা যাতে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সুবিধা পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি উন্নত হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

