মাউশি কর্মকর্তার আলমারি থেকে কনডম-উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর

মাউশি কর্মকর্তার আলমারি থেকে কনডম-উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার

রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা উপ-পরিচালক আনোয়ার পারভেজের আলমারি ভেঙ্গে ৩৩টি কনডম এবং তিন পাতা যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। ৭ মে বৃহস্পতিবার বিকেলে তার আলমারি খুলে ড্রয়ারের ভেতর থেকে কনডম এবং যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট গুলো উদ্ধার করা হয়।

রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ৩ মে রোববার সদ্য বদলি হয়ে আশা উপ-পরিচালক যোগদানের জন্য সকাল ৯টার আগেই অফিসে এসে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু সদ্য বদলি হওয়া উপ-পরিচালক আনোয়ার পারভেজ বিদায় নিতে এবং দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে অফিসে আসেননি। এরই মধ্যে বিভিন্নভাবে আনোয়ার পারভেজকে অফিসে এসে আলমারি খুলে ফাইলপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অফিসের অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ৩ তারিখ থেকে ৭ তারিখ দুপুর পর্যন্ত আনোয়ার পারভেজ অফিসে না এসে ফাইলপত্র বুঝিয়ে না দেওয়ায় ফাইলপত্র ছাড়াই অফিস করা শুরু করেন বর্তমান উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকাড়। কাগজপত্র আলমারিতে থাকায় এবং কাজ করতে সমস্যা হওয়ায় ৭ মে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকাড় অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে আলমারির ড্রয়ার খুলে কাগজপত্রের সঙ্গে ৩৩ টি কনডম এবং তিন পাতা যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করেন। এগুলো উদ্ধারের পরে অফিসে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কর্মকর্তারা আরো জানান, গত ২৭ এপ্রিল উপ-পরিচালক আনোয়ার পারভেজের বদলির অর্ডার আসে। সেই হিসেবে তার শেষ কর্ম দিবস ছিল ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। পাশাপাশি পরিচালক আমির আলীর চাকরি জীবনের শেষ কর্ম দিবস ছিল একই দিন ৩০ এপ্রিল। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অধ্যক্ষরা প্রফেসর আমির আলীকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান। আনোয়ার পারভেজকেও ফুল দিয়ে বিদায় জানানোর জন্য কর্মকর্তা কর্মচারী অপেক্ষা করলেও তিনি বিদায় না নিয়ে কাউকে কিছু না বলে বাসায় চলে যান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনোয়ার পারভেজের ২৭ এপ্রিল বদলির অর্ডারের সঙ্গেই উপ-পরিচালক হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত করেন দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক কর্মকর্তা প্রফেসর কামরুজ্জামান পাইকাড়কে। কিন্তু ১ তারিখ শুক্রবার ২ তারিখ শনিবার হওয়ার কারণে সদ্য বদলি হয়ে আসা উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকাড় যোগদান করতে পারেননি।

এ বিষয়ে রংপুর আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের বর্তমান উপ পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকাড়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আলমারি চাবির অপেক্ষায় আমি ৪ দিন অপেক্ষা করেছি। কিন্তু সাবেক উপ-পরিচালক অফিসে আসেননি আমাকে চাবিটিও পৌঁছিয়ে দেননি। বাধ্য হয়ে আলমারির তালা ভাঙ্গা হয়েছে। তবে কনডম এবং যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধারের বিষয়গুলো নিয়ে পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বিসিএস ক্যাডারদের দুর্নাম হবে। তাই এ বিষয়ে সংবাদ না করাই ভালো।

রংপুর আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিচালক সাদাকাত হোসেন বলেন, আমি পিএইচডি করার জন্য পরীক্ষা দিতে ঢাকায় ছিলাম তাই এসব কিছু জানিনা। তবে পরিচালক বিদায় নেওয়ার পর এবং উপ-পরিচালক বদলি হওয়ার পরে সব দায়-দায়িত্ব এসে পড়ে বর্তমান উপ-পরিচালকের কাঁধে। আনোয়ার পারভেজ সাহেব বদলি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার হাতে সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি সময় মত আলমারির চাবি বুঝিয়ে না দেওয়া অন্যায় করেছেন।

মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (সেসিপের) যুগ্ম পরিচালক প্রফেসর আমিনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, রংপুর মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষার উপ-পরিচালক আনোয়ার পারভেজ কখনো ভালো মানুষ ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। ঢাকায় আমাদের অফিসসহ মন্ত্রণালয়ে টাকা পয়সা খরচ করে অনেককে প্যাকেট করে রেখেছেন। এ কারণে তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আসলেই তারা ফাইলগুলো গায়েব করে রাখেন। আমাদের মত কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছায় না।

এ বিষয়ে সদ্য বদলি হওয়া উপ পরিচালক আনোয়ার পারভেজ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কথা না বলে মাধ্যম দিয়ে জানান, আমি কোন অন্যায় করিনি। যারা আমার বিরুদ্ধে বলছেন তারা সুবিধা না পাওয়ার কারণে বলছেন। তার আলমারিতে কনডম এবং যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট এর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দেননি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...