কুড়িগ্রামের রৌমারীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে এক সাংবাদিকের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে তাকে বদলির প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন এ তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
বুধবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব নুসরাত জাহান নিসু স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে রাফিউর রহমানের বদলির প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এর পরদিন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাজুর বাড়িতে তল্লাশি চালান এসিল্যান্ড রাফিউর রহমান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সিনিয়র সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাজু উপজেলার সবুজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দৈনিক মানবজমিনের রৌমারী উপজেলা প্রতিনিধি।
সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের আমবাড়ি গ্রামের একটি জমির নামজারি তিনি গত ২৭ আগস্ট করেন। পরে ৩১ আগস্ট কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ওই নামজারি বাতিল করেন এসিল্যান্ড। এভাবে নামজারি বাতিল করার এখতিয়ার তার আছে কি না—বুধবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে এমন প্রশ্ন করায় এসিল্যান্ড ক্ষিপ্ত হন বলে দাবি করেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম বলেন, “এরই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আমার বাড়িতে মাদক মজুদের অভিযোগ তুলে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।”
তল্লাশির সময় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি। তবে তল্লাশিতে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রৌমারীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ঘুষ না দেওয়ায় এক ব্যক্তির জমি অন্য ব্যক্তির নামে খারিজ করে দেওয়া, চেইনম্যানকে কানুনগো বানিয়ে ঘুষ বাণিজ্য করা, অফিসে সালাম দেওয়া বা না দেওয়া নিয়ে মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে বিনা কারণে হয়রানি করা, অফিসে ঘুষ বাণিজ্য ও দালাল সংক্রান্ত প্রশ্ন করায় কয়েকজন সাংবাদিককে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তেল পাম্পে স্যালো মেশিন এনে তেল নিতে হবে—এমন কথা বলায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। অবৈধ ড্রেজার চালাতে টাকা না দেওয়ায় আনসার সদস্যদের সহায়তায় ড্রেজার ভেঙে জব্দ করার অভিযোগও রয়েছে। এ সময় ইটপাটকেলের মার খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ছাড়া দুপুরের পর অফিস না করে ঘুমিয়ে থাকাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সাংবাদিকের বাড়িতে তল্লাশির বিষয়ে রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, “আমার এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই। এসিল্যান্ড পুলিশ চেয়েছিল, আমি দিয়েছি।”
সাংবাদিকের বাড়িতে তল্লাশির বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে রৌমারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান বলেন, “মাদকের ইনফরমেশন পেয়ে ওই ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি করেছিলাম। কিন্তু কিছু পাওয়া যায়নি। তিনি সাংবাদিক কি না আমি জানি না।”
বদলির প্রজ্ঞাপন জারির পরদিনই সাংবাদিকের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর অভিযোগ এবং এর পেছনের কারণ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

