আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আমার ফল ছিনতাই করেছেন, এর জবাব আল্লাহর তরফ থেকে পাবেন

রংপুর ডিসিকে আঙুল উঁচিয়ে শাসালেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী

রংপুর অফিস

রংপুর ডিসিকে আঙুল উঁচিয়ে শাসালেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী

‘আপনি আমার ফল ছিনতাই করেছেন, এর জবাব আল্লাহর তরফ থেকে পাবেন। আমার বউ-বাচ্চাকে আপনি কস্ট দিয়েছেন, তারা চোখের পানি ফেলেছে। আল্লাহর তরফ থেকে আপনার বিচার হবে, আপনার বউ-বাচ্চারও রাস্তায় নামবে।’ বলে আঙুল উঁচিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসানকে শাসালেন রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা।

রোববার দুপুর ২টায় ডিসি অফিসের কার্যালয়ে ডিসিকে উদ্দেশ করে হাত উঁচিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। আবারও ভোট গণনার দাবিতে বেলা সাড়ে ১২টা দিকে রংপুর ৩, ৪ ও ৬ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের নিয়ে ডিসি অফিস ঘেরাও করেন। পরে পরাজিত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম, সামসুজ্জামান সামু ও এমদাদুল হক ভরসা ডিসির রুমে গিয়ে আবারও ভোট গণনার দাবিতে স্মারকলিপি দেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় ডিসি ভোট পুনর্গণনার অনুমতি আইন অনুযায়ী তার হাতে নেই, ইলেকশন ট্রাইবুনালে মামলার কথা বললে এমদাদুল ভরসা ডিসিকে উদ্দেশ করে দুই আঙুল উঁচিয়ে উঁচিয়ে কথা বলেন এবং বিভিন্ন অভিযোগ আনেন।

এ সময় এমদাদুল হক ভরসা ডিসিকে উদ্দেশ করে আরও বলেন, আমরা জানতে চাচ্ছি। আমরা তো অভিযোগ দিয়েছি। ভোট পুনর্গণনা করতে কত দিন লাগবে। ৫ বছর পরে ২ বছর নাকি কালকে। আপনি আমাদের টাইম ফ্রেম বলেন। আপনি যদি এখন আমাকে সিস্টেম দেখান। যখন ভোটটার অনিয়ম করেছেন তখন তো সিস্টেমে করেন নেই। তখন তো অনিয়মে করছেন। এখন যদি আমাকে সিস্টেমে ফেলান। আমি এটা মানবো না। আমার কথাহলো। আমার গণনা আমি দ্রুত যাই কবে। কবে নিষ্পত্তি হবে।

ডিসিকে উদ্দেশ করে পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল ভরসা আরও বলেন, ভাই আমার কথাটা হলো। আপনি যখন অনিয়ম করলেন তখন তো কোন সিস্টেম ছিল না। আমার কপালে আপনি সিস্টেম আনছেন। আমি এটা মানতে রাজি নই। আপনি আমাকে বলেন, কয়দিন লাগবে। আমি দুইভাবে রাস্তায় হাটবো ভাই। আমি আন্দোলন করবো। আমি আইনি মাধ্যমেও হাতদিবো। আপনার হাতে সব আছে। আপনার হাতে ব্যালট আছে। আপনি টাইম কিল করে ব্যালট চেঞ্জ করে দিবেন। সে ক্ষমতাও আপনার আছে। আমার জনগনকে বলেন কবে নাগাদ, কয়দিন লাগবে।’

দুই আঙুল উঁচিয়ে এমদাদুল হক ভরসা ডিসিকে আরও বলেন, আপনি জানেন না। আমরা ১৭ বছর জীবন যুদ্ধ করেছি। আপনি এখন সিস্টেমের কথা বলেন, ভাই আমার অভিশাপ লাগবে। আমার বালবাচ্চারা কানতেছে। আল্লাহর তরফ থেকে আপনার বাল বাচ্চারা রাস্তায় নামবে। এটা আমার অভিশাপ। আপনি আমার ফলাফল ছিনতাই করেছেন। এর জবাব আল্লার পক্ষ থেকে পাবেন । আপনার ফ্যামিলি পাবে। আমার বউ বাচ্চাকে আপনি কষ্ট দিচ্ছেন। আমার বউ বাচ্চার যে চোখের পানি আপনি ফেলাইছেন। আল্লাহর তরফ থেকে আপনার বিচার হবে। আপনার বিচার হবে। আপনার বিচার হবে।’

পরে সেখানে উপস্থিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ৬ আসনে পরাজিত প্রার্থী সাইফুল ইসলাস এবং মহানগর আহ্বায়ক ৩ আসনের পরাজিত প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু এমদাদুল ভরসাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। এসময় ডিসির কক্ষেই এমদাদুল ভরসার নেতাকর্মীদের ডিসির দুই গালে জুতা মারো তালে তালে বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা গালিগালাজও করেন।

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত ডিসি অফিস ঘেরাও করে সমাবেশ ওবিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ভোট চোর ভোট চোর ডিসি ভোট চোর, ভোট চোর ভোট চোর এস পি ভোট চোর, ভোট চোর ভোট চোর আখতার ভোট চোর, ভোট চোর ভোট চোর জামায়াত শিবির ভোট চোর, জামায়াত শিবির রাজাকার, এ মুহূর্তে বাংলা ছাড়। ডিসির দুই গালে জুতা মারো তালে তালে, এসপির দুই গালে জুতা মারো তালে তালেসহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় তারা।

পরে এক ব্রিফিংয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন,‘রংপুর-৩, ৪ ও ৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ভোট পূন গণনার জন্য আবেদন দিয়েছে। সে আবেদন গুলো আমরা যথাযথ ভাবে গ্রহণ করেছি। আমরা দ্রুত নির্বাচন কমিশন সচিবলায়ে প্রেরণ করবো।

নির্বাচনি আইন ১৯৭২ সালের গণ প্রতিত্বিনিধি আদেশ অনুযায়ী ফলাফল ও গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচনী ট্রাইবুনাল কিংবা উচ্চ আদালতের আদেশ ছাড়া ছাড়া ভোট পুনর্গণনার কোন অনুমতি দেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। তারপরেও আজ আমার সাথে কি ভাষায় বলা হয়েছে তা মব তৈরির চেস্টা। এই জাতিয় মব কন্টোলের জন্য আমাদের যে সিআরপিসি ধারা রয়েছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়াহবে। রংপুরে জেলা অত্যন্ত আনন্দমুখর উৎসবের আমেজে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে। ৬৫ ভাগ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন। এটাকে বিতর্কিত করার কোন সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের এমপি এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘মব তৈরি করে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে অসদাচরণ করে আইনলংঘন করেছেন। কিন্তু আইনশংখলা বাহিনী কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। বিএনপির হাই কমান্ড তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এটা খুবই ভয়াবহ ব্যাপার। এর মাধ্যমে প্রমাণ হচ্ছে যে ক্ষমতায়গিলে তারা প্রশাসনের সাথে কি ধরণের ব্যবহার করবে। তাদের অন্যায় কথা না শুনলে তারা প্রশাসনকে টিকতেই দিবে না। বিএনপির চেয়ারম্যান সাংবাদিক সম্মেলনে এক্যের কথা বলছেন, কিন্তু তার মাঠের কর্মীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে মব তৈরি করছে। হামলা করছে। আগুন দিচ্ছে। এই ধরণের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে বিএনপি এ দেশের মুক্তিকামী মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা এই মব তন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজপথে নামবো। তবুও নিবার্চনকে কলুষিত করার কোন ষড়যন্ত্র মেনে নিবো না।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নির্বাচনি ফলাফল পুনর্গণনার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের পর আরপিও অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না। সেক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীকে নির্বাচন পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে 'ইলেকশন পিটিশন' বা নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হয়। ট্রাইব্যুনাল বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দিতে পারেন।

আরপিওতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফল একত্রীকরণের সময় যদি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট ভোটের গণনা নিয়ে লিখিতভাবে আপত্তি জানান এবং পুনর্গণনার যৌক্তিক দাবি তোলেন, তবে রিটার্নিং অফিসার ওই কেন্দ্রের বা আসনের ভোট পুন:গণনা করতে পারেন।

পুন:গণনার শর্তে বলা হয়েছে, যদি কোনো প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের পার্থক্য খুবই সামান্য হয় এবং গণনায় ভুল থাকার সম্ভাবনা থাকে, তবে রিটার্নিং অফিসার নিজ বিবেচনায় অথবা প্রার্থীর আবেদনে পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেন।

আরপিওতে আরও বলা হয়েছে, ফলাফল একত্রীকরণের পর থেকে সরকারি গেজেটে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করার সুযোগ থাকে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ইসি তদন্ত সাপেক্ষে কোনো কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত বা পুনরায় গণনার নির্দেশ দিতে পারে।

২০২৫ সালের সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনের কোনো কেন্দ্রে বা সম্পূর্ণ আসনে গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন সেই ফলাফল বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। তবে গেজেট হওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তার হাতে এ বিষয়ে কোন ক্ষমতা নাই। আদালতের মাধ্যমেই আসতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...