বদরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ ইনচার্জের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

রংপুর অফিস

বদরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ ইনচার্জের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
ছবি: আমার দেশ

রংপুরের বদরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের চেংমারি সাব-স্টেশন ইনচার্জ এরশাদুল হক কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন। আবার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় পুনরায় সংযোগ দিচ্ছেন।

তার এমন কর্মকাণ্ডে কেউ প্রতিবাদ করা দূরের কথা, ‘টুঁ’ শব্দটি পর্যন্ত করতে পারেন না। কারণ, তাকে রক্ষায় সদা তৎপর রয়েছে তার দালাল বাহিনী। ফলে অসহায় হয়ে পড়েছেন বিদ্যুতের গ্রাহকেরা। তবে স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্মকর্তা বলছেন, বিষয়টি জানা নেই।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, অফিশিয়াল কোনো নোটিশ ছাড়াই চেংমারি সাবস্টেশনের ইনচার্জ এরশাদুলের হকের নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়ে মধুপুর ও দামোদরপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাহকের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

আবার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেসব গ্রাহককে পুনরায় বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়। ওই দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কথা হয় রাজারামপুর এলাকার সুকানপুকুরের ওসমান গণির সঙ্গে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎসংযোগ নেওয়ার অনেক দিন হলেও অফিসের লোকজন কোনো প্রশ্ন তোলেননি।

কিন্তু চেংমারী সাবস্টেশনের ইনচার্জ এরশাদুল হকসহ পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় দালাল ওয়ায়েজ কুরুনী হঠাৎ করেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং মিটার খুলে নিয়ে যান। এ নিয়ে ইনচার্জের সঙ্গে কথা বললে তিনি ২ হাজার টাকা নেন। এরপর স্থানীয় এক ইলেকট্রিশিয়ানের মাধ্যমে মিটার ফেরত দেন এবং পুনরায় বিদ্যুতের সংযোগ দেন।

মধুপুর ইউনিয়নের পাকারমাথা বাজারের ব্যবসায়ী মনিকৃষ্ণ বলেন, দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার অভিযোগে ইনচার্জ এরশাদুল হক বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং সন্ধ্যায় চেংমারি সাব স্টেশনে যেতে বলেন।

এরপর সেখানে গেলে ওই ইনচার্জ রসিদ ছাড়াই বকেয়া বিল, জরিমানার অর্থ এবং ডিসি (ডিস কানেক্ট)/আরসি(রি কানেক্ট) ফি বাবদ ৪২০০ টাকা আদায় করেন। এরপর ইনচার্জ নিয়োজিত রিয়াজুল নামে এক লাইনম্যান এসে পুনরায় বিদ্যুতের সংযোগ দেন।

রাজারামপুর এলাকার রেজাউল করিমের সেচ মিটার খোলা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এলাকার লোকজন নিয়ে চেংমারি সাবস্টেশন ঘেরাও করেন। এ কারণে তার মিটার ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি পুনরায় বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দামোদরপুর ইউনিয়নের শেখেরহাট বাজারের সাইদার রহমানের কাছে যান ইনচার্জ এরশাদুল হকসহ আরো চার-পাঁচ জন। এরপর কথা বলতে বলতেই তার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মিটার খুলে নেওয়া হয়। পরে তিনি ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে মিটার ফেরতসহ আবারও সংযোগ নিয়েছেন।

এলাকার লোকজনের দাবি, ইনচার্জ এরশাদুল হকের নেতৃত্বে স্থানীয় ইলিয়াছের মাধ্যমে বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। তারা যখন-তখন গ্রাহকদের বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন। আবার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুনরায় সংযোগ দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি তিনি ২৫০০টাকার বিনিময়ে ইলেক্ট্রিশিয়ান সহকারী এমদাদুলের মাধ্যমে দামোদরপুর ইউনিয়নের বকশিপাড়ার স্বপন মিয়াকে খুঁটি থেকে ১৬০ ফুট দূরে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছেন।

একইভাবে চেংমারীর এনামুল হক ও সন্তোষপুর এলাকার আফানের পাড়ার আনিছুল হকের কাছ থেকে ২৫০০ টাকা করে নিয়ে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়েছেন। লোকজনের দাবির সপক্ষে এ প্রতিনিধির কাছে অন্তত অর্ধশত অভিযোগের তথ্য রয়েছে।

এদিকে সাংবাদিকদের তথ্য নেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ইনচার্জ এরশাদুল হক তার দালাল চক্র তারাগঞ্জের হাড়িয়ারকুঠি এলাকার নজরুল ইসলামের ৪ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। এর পাশাপাশি সন্তোষপুর ভাঙনের পাড়ার বারেক আলী ও সাহেব আলীর ৫০০০ টাকা ফেরত দিয়েছেন।

এ বিষয়ে লাইনম্যান রিয়াজুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর ধরে সাংবাদিকেরা তো চুপচাপ ছিলেন। এখন এসব নিয়ে কেন এত আগ্রহ দেখাচ্ছেন আমরা তা ভালোভাবে বুঝি। তাই আপনারা যা পারেন লেখেন সমস্যা নেই।’

এদিকে চেংমারি সাব স্টেশন ইনচার্জ এরশাদুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমি যা করেছি নিয়ম মেনেই করেছি। আমি কখনোই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাইনি।’ এর বেশি বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

অপরদিকে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম বিপ্লব কুমার পাল বলেছেন, এসব বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। গ্রাহকেরা যদি লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন