আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভোট পেতে শাড়ি লুঙ্গি বিতরণ, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

রংপুরে ভোটের আগে কালোটাকা ছড়ানোর অভিযোগ

বাদশা ওসমানী, রংপুর

রংপুরে ভোটের আগে কালোটাকা ছড়ানোর অভিযোগ
ছবি: আমার দেশ

১২ ফেব্রুয়ারি আসন্ন। তাই এখন আর দিনক্ষণের হিসাব নেই। সবাই গুনছেন ঘণ্টা। শেষ হয়েছে সভা-সমাবেশ ও প্রচার। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়িতে ডেকে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণের ফাঁকে দিচ্ছেন নগদ অর্থ। পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে কালোটাকা বিতরণের অভিযোগ ফ্যাসিস্টের দোসর জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে।

প্রশাসন জেনেও নীরব ভূমিকা পালন করায় প্রশ্ন তুলেছেন ১১দলীয় জোটের নেতারা। তাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে শঙ্কা তাদের। রংপুর জেলা ছয়টি আসন নিয়ে গঠিত। মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৩ জন প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন

১১দলীয় জোটের নেতারা বলেন, আচরণবিধি ভাঙার রেকর্ড করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা। এখনো পথে-ঘাটে, অলিতে-গলিতে শোভা পাচ্ছে তাদের ছবি সংবলিত রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন। প্রশাসনকে জানানোর পরেও তারা সেগুলো সরাননি।

উল্টো ১১দলীয় জোটের নানানভাবে হয়রানি করার অভিযোগ তাদের। ফ্যাসিস্টের দোসর জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রকাশ্যে বাড়িতে ভুরিভোজের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

রংপুর-১ (গংগাচড়া-সিটি কর্পোরেশনের আংশিক) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির মোকারম হোসেন সুজন, জামায়াতের মাওলানা রায়হান সিরাজী। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজনের বিরুদ্ধে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে টাকা বিতরণের অভিযোগ ১১দলীয় জোটের সমর্থকদের।

রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি আনিছুল ইসলাম মণ্ডল, জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম।

জাপা প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মণ্ডের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রকাশ্যে টাকা দেওয়ার অভিযোগ বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ড হয়ে গেছে। অন্যদিকে বিএনপির কর্মী-সমর্থেরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থক ও ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ১১দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।

রংপুর-৩ (সিটি-সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী। বিএনপির সামসুজ্জামান সামু, জামায়াতের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, জাতীয় পার্টির গোলাম মোহাম্মদ কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুজ্জামান পিয়াল।

এই আসনে জি এম কাদেরের বাসভবনে প্রকাশ্যে ভুরিভোজ করে সাধারণ ভোটারদের ডেকে নগদ অর্থ বিতরণ করছেন বলে অভিযোগ বিএনপির নেতাকর্মীসহ ১১দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও জাপার প্রার্থী মাহবুবুর রহমান।

এখানে বিএনপি প্রার্থী ইমদাদুল হক ভরসা প্রকাশ্যে ভোটারদের শাড়ি লুঙ্গির পাশাপাশি নগদ অর্থ বিতরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। পাশাপাশি জাপার প্রার্থী মাহবুবুর রহমান ও ভোটারদের উপঢৌকন ও নগদ অর্থ বিতরণ করছেন। বিষয়গুলো তিনি প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে তিনি মিডিয়ার সামনে জানান।

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। বিএনপির মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী, জামায়াতের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী এবং জাতীয় পার্টির ফখরুজ্জামান। এখানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখরুজ্জামান বাড়িতে ভোটারদের দেখে খাওয়ানোর পাশাপাশি উপঢৌকন ও নগদ অর্থ বিতরণ করছেন বলে অভিযোগ জামায়াত প্রার্থী ও সমর্থকদের।

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে আটজন প্রার্থী। বিএনপির সাইফুল ইসলাম, জামায়াতের মাওলানা নুরুল আমীন ও জাপার মশিউর রহমান যাদু মিয়া। এখানে ১১ দলীয় জোটের কর্মী সমর্থকদের বিএনপির নেতাকর্মীরা ভয়-ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন জামাতের মাওলানা নুরুল আমিন। তবে জাপা প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটারদের কাছে কালো টাকা বিতরণ করছেন বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা এখনো প্রমাণ করতে পারেনি। আমার আসনে প্রকাশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা শাড়ি কাপড় বিতরণ ফাঁকে ভোটারদের নগদ অর্থ কালো টাকা বিতরণ করছেন বিষয়গুলো আমরা প্রশাসনকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এক্ষেত্রে বুঝা যায় ভোটের মাঠে সবার সমান সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির রংপুর দুই আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। তারা পুরোপুরি লেভেলিং ফিল্ড এখনো করতে পারেননি। তবে এবার সাধারণ ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। তারা কাউকে ভয় পাবেন না বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ের রিটার্নিং কর্মকর্তা রংপুর জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান বলেন, আমরা কারো পক্ষপাতিত্ব করছি না। ইতিমধ্যেই আচরণবিধি ভঙ্গ করায় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ করছেন পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। কোনো ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...