গঙ্গাচড়ায় তিস্তার গ্রাসে ৮ বসতবাড়ি, শত বিঘা কৃষিজমি

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার গ্রাসে ৮ বসতবাড়ি, শত বিঘা কৃষিজমি
তিস্তার ভাঙনে শেষ সম্বল বাঁচাতে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। ছবি: আমার দেশ।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচাড়িপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে শত বিঘা আবাদি জমি হারিয়ে গেছে তিস্তার ভাঙনে। পানি কমতে শুরু করার পর ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সরেজমিনে কাচাড়িপাড়া এলাকায় দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের মাটি মুহূর্তেই ধসে পড়ছে। অনেক বাড়ির আঙিনা ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙন বসতঘরের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় কেউ ঘরের টিন খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ ইট, কাঠ ও গৃহস্থালির মালামাল স্থানান্তর করছেন। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে সামান্য জিনিসপত্র নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

মোত্তালিব, সুরুজ মিয়া ও আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত আটটি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া শত বিঘা ফসলি জমি নদীতে হারিয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অসংখ্য বসতবাড়ি ও কৃষিজমি।

ক্ষতিগ্রস্ত মোত্তালিব বলেন, চোখের সামনে আমার বসতবাড়িটা নদীতে তলিয়ে গেল। সারাজীবনের কষ্টার্জিত সবকিছু মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, সেই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

সুরুজ মিয়া বলেন, ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা এখন নিঃস্ব। ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাইনি। সরকার যদি দ্রুত সহযোগিতা না করে, তাহলে পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, নদী আমার ঘর, জমি, সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, কীভাবে নতুন করে জীবন শুরু করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনরোধে কাজ চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন