রংপুর বিভাগে বাড়ছে হাম উপসর্গে রোগী ভর্তি, শনাক্ত ১৩

রংপুর অফিস

রংপুর বিভাগে বাড়ছে হাম উপসর্গে রোগী ভর্তি, শনাক্ত ১৩

রংপুর বিভাগে দিন দিন বাড়ছে হাম উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা। তবে এখন পর্যন্ত এ রোগে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে নতুন করে ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। যা আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় ৫ জন বেশি।

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ে বিভাগে মোট ৩৮১ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৪২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৩৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে বর্তমানে ভর্তি রোগীদের মধ্যে রংপুরে ২ জন, লালমনিরহাটে ৩ জন, নীলফামারীতে ৯ জন, দিনাজপুরে ৩ জন, গাইবান্ধায় ৭ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ জন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে নীলফামারীতে ৫ জন, দিনাজপুরে ৩ জন, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে ২ জন করে এবং কুড়িগ্রামে ১ জন রয়েছে। শনাক্ত সকল রোগী চিকিৎসাধীন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নতুন করে ১ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সেখানে ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং এ পর্যন্ত ৩৫ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম চিকিৎসা কমিটির ফোকাল পারসন ডা. আনম তানভীর চৌধুরী বলেন, “পরিস্থিতি উদ্বেগজনক না হলেও প্রতিদিন উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে।”

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, ৩১ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল সকাল ৯টা পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় ৩৮১ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বর্তমানে ৩৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, বিভাগের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে হাম কর্নার চালু করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন