রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) নির্বাচনি এলাকায় এনসিপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলার জন্য ভরসাকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার মদতে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।’
রোববার বিকেলে হারাগাছ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
আখতার হোসেন জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই হারাগাছ এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে ‘ভরসা বাহিনী’। বিশেষ করে সারাই বালাহাট পশ্চিমপাড়া, বালারঘাট খামার ও দালালহাটখোলা এলাকায় এনসিপি নেতা মনিরুল ইসলাম, আরাফাত হোসেন এবং জামায়াত কর্মী মোমিনের বাড়িতে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, হামলাকারীরা আসবাবপত্র, মোটরসাইকেল, টেলিভিশন ও ওয়াশিং মেশিন ভাঙচুর করেছে এবং স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ভয়ে অনেক নেতা-কর্মী এখনো বাড়িতে ফিরতে পারছেন না।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলছে, অন্যদিকে তাদের হাইকমান্ডের প্রশ্রয়ে পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াচ্ছেন। বিষয়টি তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে অবহিত করেছেন। ১০ দিন পার হলেও পুলিশ বা সেনাবাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারল না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আখতার।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। তিনি বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন জানিয়ে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। কোনো প্রমাণ ছাড়াই সত্য আড়াল করতে এসব বলা হচ্ছে। আমার নাম ব্যবহার করে যা প্রচার করা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"
আখতারের সফরকে কেন্দ্র করে গতকাল থেকেই হারাগাছে উত্তেজনা বিরাজ করছে। হারাগাছ পৌর বিএনপি প্রথমে হরতালের ডাক দিলেও পরে পবিত্র রমজান মাসের কথা বিবেচনা করে তা প্রত্যাহার করে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

