অচল ২ নম্বর ইউনিট মেরামতে প্রয়োজন ২০০ কোটি টাকা

সাত মাস পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিট

উপজেলা প্রতিনিধি, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)

সাত মাস পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিট

টানা প্রায় সাত মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফিরেছে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট। জেনারেল ওভারহলিং শেষে বুধবার বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ইউনিটটি চালু করা হয় এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে।

কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক সন্ধ্যা ৬টায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে ইউনিটটিতে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ইউনিটটি বন্ধ ছিল। এ সময় ইউনিটটির ওভারহলিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে ১ নম্বর ও ৩ নম্বর ইউনিট চালু থাকায় দুটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে ১ নম্বর ইউনিটে ৫০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। আগামীকালের মধ্যে দুটি ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাড়ে চার বছর ধরে অচল ২ নম্বর ইউনিট

৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র–এ মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিটের ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট।

তবে ২০২০ সালের নভেম্বরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২ নম্বর ইউনিটটি এখনও সচল করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে ইউনিটটি দীর্ঘদিন অচল পড়ে আছে।

এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন,“২ নম্বর ইউনিটটি বর্তমান অবস্থায় মেরামত করতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। এই অর্থ দিয়ে নতুন ইউনিট নির্মাণ করাও সম্ভব।”

রক্ষণাবেক্ষণে গাফিলতির অভিযোগ

বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা ব্যবহার করে কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে ছোটখাটো মেরামত ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি ইউনিট পরিচালনার জন্য দুটি ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প প্রয়োজন হয়। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে ৩ নম্বর ইউনিটের দুটি পাম্পের একটি বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে একটি পাম্প দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে ইউনিটটি চালানো হচ্ছিল। এর কারণে মাঝেমধ্যেই ইউনিটটি বিকল হয়ে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেত বলে জানা গেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...