দেশের সর্ববৃহৎ কয়লাক্ষেত্র হিসেবে আবিষ্কৃত দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পুঁটিমারা ইউনিয়নের অন্তর্গত দীঘিপাড়া কয়লাক্ষেত্র এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ১৯৯৫ সালে কয়লাক্ষেত্রটি আবিষ্কারের ৩০ বছর পার হলেও এখনো সাফল্যের দেখা মেলেনি। মাঝে ২০১৮ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হওয়ার পর ওই কয়লাক্ষেত্র এলাকায় আর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) ১৯৯৫ সালে দীঘিপাড়া কয়লাক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। এরপর তৎকালীন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সেখানে কয়লা আবিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। ঘোষণার পর ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের (জিএসবি) খনন দল এলাকায় পর্যায়ক্রমে পাঁচটি কূপ খনন করে। এসব কূপ খননকালে তৎকালীন সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ও বর্তমানে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানও কয়লাক্ষেত্র এলাকাটি পরিদর্শনে এসেছিলেন। সে সময় মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সেখানে উন্নতমানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর কাজ শেষে কয়লার অনুসন্ধান ও কয়লা উত্তোলনের ব্যাপারে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। দেশের অব্যাহত জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা দীঘিপাড়া কয়লাক্ষেত্র উন্নয়নের দায়িত্ব নেয়।
সে সময় বলা হয়, কয়লাক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হলে এখান থেকে বছরে ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন) টন কয়লা উৎপাদন সম্ভব, যা দিয়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। সব বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ দীঘিপাড়া কোল বেসিনের ২৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকার মোট কয়লার পরিমাণ নির্ণয় এবং বেসিনের কেন্দ্রীয় অংশে (১০ থেকে ১১ বর্গ কিলোমিটার) ভূগর্ভস্থ পদ্ধতি ব্যবহার করে বছরে ৪০ লাখ টন কয়লা উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন খনি উন্নয়নের জন্য বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষকে অনুসন্ধান ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুমোদন দেয়। সে অনুযায়ী ২০১৮ সালে সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ করা হয়। এরপর সেখানে আর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
কয়লাক্ষেত্রটি আদৌ আলোর মুখ দেখবে কি না সে বিষয়ে আক্ষেপ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে দেশের জ্বালানি খাতকে আরো সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের কর্মসংস্থানকে আরো ত্বরান্বিত করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

