দেশের উত্তর জনপদের ভারত সীমান্তঘেঁষা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা। পশ্চিম-দক্ষিণ ও পূর্ব দিকে নদী দ্বারা বেষ্টিত এবং উত্তরে রয়েছে ভারতের সীমান্ত কাঁটাতার। ফুলবাড়ীর মানুষ বন্যাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও কৃষিকাজ করে জীবনযাপন করছেন।
এছাড়া রয়েছে ভারতীয় আগ্রাসন এবং মাদকের প্রভাব। এখানকার অধিকাংশ পরিবারের প্রধানেরাই কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
কৃষি থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে অভিভাবকেরা সন্তানদের শিক্ষিত করে শিক্ষার হার বাড়িয়েছেন। শিক্ষাজীবন শেষে অনেকেই এখন চিকিৎসক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দেশসেবায় নিয়োজিত রয়েছেন।
কৃষকেরা স্বপ্নের ফসল উৎপাদন করলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। আলু ও সবজি সংরক্ষণে হিমাগারের প্রয়োজনীয়তা তাদের দীর্ঘদিনের। হিমাগার থাকলে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল দেশের সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি আলুসহ সবজিজাতীয় ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন কৃষকেরা।
কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও এখানে কৃষকের এই দাবি পূরণ হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ কোনো জনপ্রতিনিধি কৃষকের স্বার্থের দিকে নজর দেননি কখনো। ফলে কৃষকেরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। উৎপাদন শেষে আলু সংরক্ষণের জন্য ৩০-৪০ কিলোমিটার দূরের কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ী বা লালমনিরহাট জেলার মহেন্দ্রনগর পর্যন্ত যেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। দূরপথে যাতায়াত খরচ বাদে এক বস্তা আলু সংরক্ষণে ৪০০ টাকা খরচ হয়।
ফুলবাড়ীর মাটি ফসল উৎপাদনের জন্য উর্বর হলেও আলু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ফসল চাষে আগ্রহ কমছে। তার পরও কৃষকেরা লোকসানের মুখে আলু ও সবজি উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন হিমাগার প্রতিষ্ঠার আশায়।
উপজেলা সদরের কুটিচন্দ্রখানা চেয়ারম্যানপাড়ার যুবক আব্দুস ছালাম জানান, দুই বছর আগে দেশের আলুর সংকটের সময় তিনি আলু চাষ শুরু করেন। তিনি বলেন, আমি এ বছর ১৯ বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে আলু চাষ করেছি। শ্রমিক খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। ফলন ভালো হলেও বাজার কম থাকায় হতাশ এবং চাষে আগ্রহ কমছে।
আব্দুস ছালাম আরও জানান, উৎপাদিত আলুর খরচ ১৬ টাকা হলেও বাজারমূল্য ১১ টাকা। তিনি সরকারের কাছে দুটি দাবি করেছেন, প্রথমত বাংলাদেশের কৃষকদের উৎপাদিত আলু বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা এবং সবজি সংরক্ষণ ও আলু সংরক্ষণের জন্য আলাদা দুটি হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা।
উপজেলার পানিমাছকুটি গ্রামের আলুচাষি আলী হোসেন বলেন, আমি ৪১ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করি। বাজার কমে যাওয়ায় ২০ হাজার টাকা লোকসানে আছি। যদি হিমাগার থাকত তাহলে লোকসান হত না।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন জানান, উপজেলায় হিমাগার কৃষকের জন্য ভালো হবে। কেউ যদি হিমাগার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসে তাহলে আমরা দাপ্তরিকভাবে সহযোগিতা করব।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

