আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রাণীশংকৈলে কোটি টাকার মার্কেট দুই বছরেও চালু হয়নি

উপজেলা প্রতিনিধি, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও)

রাণীশংকৈলে কোটি টাকার মার্কেট দুই বছরেও চালু হয়নি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ বাজারে নির্মিত আড়াই কোটি টাকার একটি আধুনিক ভবন দুই বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো সেখানে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করেনি দোকান মালিকরা। এতে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ভবনের অবকাঠামো। অন্যদিকে ব্যবসায়ীক সুফল থেকে বঞ্চিত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর এটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় হয় ২ কোটি ৫৫ লাখ ১২ হাজার ১০২ টাকা। উদ্দেশ্য ছিল কৃষিপণ্য ও অন্যান্য পণ্য বিপণনে সুবিধা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনা হবে মার্কেটের মূল লক্ষ। সরেজমিনে দেখা যায়, দুই তলা ভবনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু নিচতলার ৩৪টি এবং দ্বিতীয় তলার ২৪টি দোকানঘর এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি।

নিচতলায় সবজি, মাছ ও মাংসের দোকান বসার কথা থাকলেও অধিকাংশ ঘর ফাঁকা রয়েছে। দোতলায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঘরগুলোতেও ব্যবসা শুরু হয়নি। বাজারে তিন শতাধিক ছোট-বড় দোকান রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এখনো খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী ঘরে ব্যবসা করছেন।

ব্যবসায়ী শহিদুল বলেন, ভবনটি চালু না হওয়ায় আমরা সুবিধা পাচ্ছি না। ভবানন্দপুর গ্রামের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর নামে এক লাখ টাকা জামানত দিয়ে দোকান নিয়েছে। এক হাজার টাকা মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখনও মার্কেট চালু হয়নি।

নেকমরদ মেলা কমিটির সম্পাদক মো. নবী বলেন, ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থের অপচয় হবে। লীজ বাতিল করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদেরকে লীজ প্রদানের দাবি ব্যবসায়ীদের।

উপজেলা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, এলজিইডি নির্মাণকাজ শেষ করে ভবনটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে। বাজার চালুর বিষয়টি প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

নেকমরদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন, দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা এখনো ব্যবসা শুরু করেননি, তাদের দ্রুত ব্যবসা চালু করতে বলা হবে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন