রংপুরে সিগন্যাল অপারেটর ক্যাবল ওয়ানের অফিসে হামলা ও হত্যার হুমকির মামলায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠন রংপুর জেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিঠুন এবং জেলা যুবদলের সহসম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিবকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার রাত ১১টার দিকে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আজাদ রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, সোমবার রাতে নগরীর কামাল কাছনার নিজ বাড়ি থেকে র্যাব-১৩-এর একটি আভিযানিক গালিবকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল নগরীর নুরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে মিথুনকে।
এর আগে ডিশ ব্যবসার ফিডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় নগরীর প্রেসক্লাবের সামনে ক্যাবল ওয়ান অফিসে এই হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার অভিযোগ ওঠে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনু, সহসাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব এবং তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুনসহ ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, নগরীর কামালকাছনা এলাকার ফিডের বর্তমান মালিক আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ ওরফে কানা হারুনকে বাদ দিয়ে যুবদল নেতা গালিবকে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ওই এলাকার ডিশ লাইন কেটে দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কানা হারুনের স্ত্রী ২৮ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেন। ওই ঘটনার জেরে ক্যাবল ওয়ান অফিসে হামলা চালিয়ে ম্যানেজার পরাগকে মারধর করেন মিথুন।
হারুনকে বাদ দিয়ে গালিবকে ফিডের দায়িত্ব দেওয়া না হলে প্রতিষ্ঠানটির জিএম কাফিকে মোবাইল ফোনে সপরিবারে হত্যার হুমকি দেয় এক যুবদল নেতা। ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয় গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
এ ঘটনায় ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালি থানায় পৃথক দুটি মামলা করে। ওই মামলায় মিথুন ও গালিবকে গ্রেপ্তার করা হলো। ঘটনা ভাইরালের পরপরই যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি মনু এবং গালিবকে দলের সব পদপদবি থেকে বহিষ্কার করে।
এদিকে যুবদল নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১৫ সালে যুবদল নেতা গালিবকে সরিয়ে অবৈধভাবে ওই এলাকার ফিডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতা ও কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ ওরফে কানা হারুন। নিয়ম অনুযায়ী ফিডের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হলেও কেবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ তা দিতে গড়িমসি করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

