জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের রংপুরের বাড়িতে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি ও জেলা আহ্বায়ক ইমরান আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সেনাবাহিনী।
রোববার রাত সাড়ে ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে নগরীর পায়রা চত্বরে তাদের আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় রাত দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। তিনি এখানে বৃষ্টিতে ভিজে ৭২ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কাইয়ুমের সাথে কথা বলেন।
৭২ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কাইয়ুম সাংবাদিকদেরকে বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের স্বার্থে সবকিছু করতে প্রস্তুত। এটাই আমার রংপুরে করে যাচ্ছি। দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যেটা যাবে সেটা দলমত নির্বিশেষে যে খারাপ কাজ করবে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। মানুষের ক্ষতি হয়, মেন্টালিজিম করা, ভেঙ্গে ফেলা, এই জিনিসগুলো করার কোন অবকাশ আমাদের অবস্থানকালীন সময় নেই। এই আমাদের বার্তা।
জিএম কাদেরের বাড়িতে হামলার বিষয়ে কোনো কিছু পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওনারা দুজনেই বলেছেন আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। ওনারা ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। ছবি দেখেছেন তারা আইডেন্টিফাই করতে পেরেছেন। কে কে আছেন তাদের দলে। যাদের হাতে লাঠি বা অন্যান্য জিনিস ছিল সেগুলো থাকার কথা না। তারা বিব্রত বোধ করেছেন। কথা দিয়েছেন রবিবার তাদেরকে হাজির করবে আমার কাছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীদের উপর জাতীয় পার্টির হামলার অভিযোগ তুলে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় মামলার আবেদন করে ফিরছিলেন দুই নেতা।
ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু, সদস্য সচিব মাহফুজ উন নবী ডন ও জেলা সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকুকে। তাদের কাছেও জানতে চাওয়া হচ্ছে এ হামলার সাথে তাদের নেতাকর্মীরা জড়িত কিনা।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের রংপুরের বাড়ি ‘দ্য স্কাই ভিউতে’ হামলার ঘটনায় তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হামলার সময়কার ভিডিও ফুটেজ এবং স্থিরচিত্র দেখিয়ে হামলাকারীদের পরিচয় জানতে চাচ্ছেন সেনাবাহিনী।
্ওই ঘটনায় জাতীয় পার্টির পক্ষে জাতীয় ছাত্র সমাজ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব আরিফ আলী ২২ জনের উল্লেখ করে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলার আবেদন করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন তার ফেসবুকে লিখেছেন, “দেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে গৃহপালিত বিরোধীদল সেজে গণতন্ত্র হত্যা করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে ঘৃণ্য ভূমিকা পালন করা জাতীয় পার্টি রংপুরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছে। এই জাতীয় পার্টিকে যে বা যারাই আশ্রয় দিবে, জাতীয় পার্টির কথায় বৈষম্যবিরোধী যোদ্ধাদের ওপর হাত তুলবে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।"
এদিকে এ ঘটনার পর রাত একটার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দেন সারজিস আলম। তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, রংপুরে ফ্যাসিস্টদের দোসরদের গ্রেপ্তার না করে অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধাদের বিব্রত করলে আগামীকাল রংপুরের রাজপথে আবার দেখা হবে।
এত রাতে হঠাৎ করে রংপুরে কেন সারজিম আলম আপনি প্রশ্ন করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম আর কি। তখন রংপুরে ছিলাম বৃষ্টি হচ্ছিল ধীরে ধীরে। যাচ্ছিলাম ঐ মুহূর্তে জানতে পারলাম রংপুরের পায়রা চত্বরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। সেখানে বিএনপি নেতা কর্মীরাও উপস্থিত আছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন যে রংপুরে জিএম কাদের এসে মিটিং করা। জাতীয় পার্টির সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে আবারো মেয়রের চেয়ারে বসানোর জন্য একটা বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। আমরা মনে করি ওই মিছিলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীর নামে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরাও ছিল। এটাকে নিয়ে এখানে একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এটা এর আগে আমরা কখনো রংপুরে দেখিনি বা আগামীতেও প্রত্যাশা করি না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

