ট্রাক–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলের পর মারা গেলেন নাতি

উপজেলা প্রতিনিধি, গঙ্গাচড়া (রংপুর)

ট্রাক–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে বাবা-ছেলের পর মারা গেলেন নাতি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত সাত বছরের শিশু বন্ধন চন্দ্র সরকারও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এর মাধ্যমে একই সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু বন্ধনের মৃত্যু হয়। এর আগে ঘটনাস্থলেই তার বাবা প্রশান্ত চন্দ্র সরকার (৪০) নিহত হন এবং গুরুতর আহত দাদা নির্মল চন্দ্র সরকার (৭০) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। নিহতরা গঙ্গাচড়া উপজেলার পশ্চিম মান্দ্রাইন গ্রামের বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মমো জুট মিলের সামনে গঙ্গাচড়া–বড়াইবাড়ী সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাদা নির্মল চন্দ্র সরকার ছেলে ও নাতিকে নিয়ে আলমবিদিতর এলাকার একটি মেয়ের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিলেন। পথে সড়কের ওপর খড় শুকিয়ে রাখার কারণে মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১৯৫৮ নম্বরের একটি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে একে একে তিনজনই মারা যান। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম দুলু বলেন, “একটি দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে খড় শুকানো এবং বেপরোয়া যান চলাচল রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।”

গঙ্গাচড়া থানার ওসি আব্দুর ছবুর বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...