স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. শাখাওয়াত হোসেন আকস্মিকভাবে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন রোগীকে সরবরাহ না করা এবং জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার নানা অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। পরিদর্শনের সময় কুকুরের কামড়ে আহত এক নারী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। কথা বলে মন্ত্রী জানতে পারেন, হাসপাতালে সরকারি জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগী বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ১ হাজার ৩০ টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনেছেন।
এ বিষয়ে রোগীর কাছে বিস্তারিত জানার পর মন্ত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হেদায়েতুল ইসলামের কাছে জানতে চান, সরকারি ভ্যাকসিন হাসপাতালে থাকার পরও কেন তা রোগীকে দেওয়া হয়নি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় মন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ওই রোগীর ভ্যাকসিন কেনার জন্য ব্যয় করা ১ হাজার ৩০ টাকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিশোধের নির্দেশ দেন।
পরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা, থানা ওসি মোজাম্মেল হক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদুর রহমান আকন্দসহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আকস্মিকভাবে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। কোনো ধরনের আগাম তথ্য বা বিশেষ প্রোটোকল ছাড়াই তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন সাধারণ ওয়ার্ড এবং কেন্দ্রীয় ওষুধ ভাণ্ডার ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের জরাজীর্ণ পরিবেশ, চিকিৎসাসেবার মান এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দুর্ভোগের চিত্র দেখে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। তিনি অনিয়ম ও গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দেন।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না। রোগীদের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে দায়িত্বে গাফিলতি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালকে আধুনিকায়ন ও উন্নত সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

