রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী মহানগরীর সরেয়ারতলে যৌতুক না দেয়ায় রেজোয়ানা দিল আফরোজ নামে এক গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ ও ননদের স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। গৃহবধূর লাশ বাড়িতে রেখে থানায় ধরনা দিচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার। তবে ১২ ঘণ্টা বিলম্বের পর পুলিশ বলছে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
জানা যায়, গৃহবধূর পিতা মো. রেজাউল করিম সাধারণ কৃষক। তার মেয়ে রেজোয়ানা দিল আফরোজকে (২২) তিনি বছর আগে
দেলোয়ার হোসেন ওরফে পারুল মিয়ার ছেলে আব্দুল করিমের (২৮) সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় আব্দুল করিমকে নগদ যৌতুক, আসবাবপত্রসহ ৫ লাখ টাকার জিনিসপত্র দেন রেজাউল করিম।
স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকে আব্দুল করিম স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো।
রেজাউল করিম আমার দেশকে বলেন, বিয়ের পর থেকেই আব্দুল করিম যৌতুক দাবি করে আসছিল। ৮ জুন বিকালে তার মেয়েকে হত্যার জন্য ঘরের দরজা বন্ধ করে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করান। পরে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। ৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে দিল আফরোজ মারা যান।
রেজাউল করিম আরও বলেন, ঘটনার দিন তিনি তার মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে ছিলেন। তার জামাই একটি ট্রাক কিনেছিলম সেজন্য পাঁচ লাখ টাকা তার কাছে চায়। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ঘরের দরজা বন্ধ করে তার মেয়ের হাত বেঁধে গায়ে আগুন দেয়া হয়।
দিল আফরোজের মামা হেলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, গতকাল দিবাগত রাত ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা থেকে লাশ আনার সময় রংপুর মেট্রোপলিটন মাহিগঞ্জ থানা থেকে ফোন করা হয়। তারা লাশ থানায় নিয়ে যেতে বলে। লাশের অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অভিযুক্ত আব্দুল করিম, তাঁর বোন পারভীন ও ভগ্নিপতি ফখরুলকে তারা পুলিশে দেয়। মাহিগঞ্জ থানার পুলিশ পারভীন ও ফখরুলকে ছেড়ে দেয়। পরে তারা ওই দুজনকে থানার সামনে থেকে আটকে আবার পুলিশের সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছিল। পরে তারা লাশ নিয়ে থানায় অবস্থান করলে পুলিশ অভিযোগ নিয়ে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া কথা বলেন। কিন্তু আজ দুপুর ১টা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
শনিবার সকাল ১১টার দিকে মাহিগঞ্জ থানায় গিয়ে দেখা যায়, নিহতের স্বজনরা থানার সামনে অপেক্ষা করছেন। দিল আফরোজের চাচা মুকুল মিয়া আমার দেশকে বলেন, ভাতিজি মারা যাওয়ার খবর জেনে গতকাল সকাল ১১টার দিকে তিনি মাহীগঞ্জ থানায় আসেন। সাক্ষাৎ না পেয়ে ফোন করলে ওসি আব্দুল কুদ্দুস জানান, আপনার ভাতিজি আত্মহত্যা করেছে, আমরা মামলা নিতে পারবো না। আপনারা আদালতে গিয়ে মামলা করেন।
মাহিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, এজাহারে বাদীর ঠিকানা ভুল থাকায় মামলা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে ওই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে, তদন্তের আগে তিনি কীভাবে জানলেন- এই প্রশ্নের উত্তর দেননি ওসি।
রংপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার মারুফ আহমেদ আমার দেশকে বলেন, তিনি ঘটনা জানতে পেরে সকালে থানায় এসেছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। আটক তিনজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
থানায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মারুফ আহমেদ বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

