মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নয়, প্রয়োজন পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ। কিশোর-তরুণদের অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের একতা বাজারে আল খিদমাহ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, আলেম, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. সেলিম রেজা। বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহীম খলিলুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আল খিদমাহ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সুদীপ্ত শামীমের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেলকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর একেএম নাজমুল হুদা, সুন্দরগঞ্জ সদর দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা, জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম এবং ব্রাইট ড্রিম মডেল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মাওলানা মো. সোলাইমান মিয়া।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সুন্দরগঞ্জ সদর দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল আজিজ এবং ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মাওলানা মো. আবু ইউসুফ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন ফাউন্ডেশনের সদস্য হাফেজ মো. আব্দুল খালেদ। পরে সচেতনতামূলক সংগীত পরিবেশন করেন রংধনু শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক হাফেজ মো. আরিফুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, মাদক ও জুয়ার বিস্তার ব্যক্তি ও পরিবারকে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
তারা আরো বলেন, মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তরুণ ও যুবসমাজকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধুমহলের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
বক্তারা মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কোথাও মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান তারা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সহযোগিতাও জরুরি বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
সভায় মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা জোরদার এবং নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


