এক টিউবওয়েলই ৬ গ্রামের মানুষের ভরসা

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়

এক টিউবওয়েলই ৬ গ্রামের মানুষের ভরসা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও সদর উপজেলায় মহানন্দা নদীর পাড়ে ৬ গ্রামের মানুষের ভরসা একটি মাত্র টিউবওয়েল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষ লাইন ধরে পানি সংগ্রহ করলেও সন্ধ্যার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় কাউকে ঢুকতে দেয় না বিজিবি। ফলে খাওয়ার পানিসহ গৃহস্থালি কাজের জন্য পানির সংকট এখানে ভয়াবহ।

বিজ্ঞাপন

সিদ্দিক নগর গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমরা ৬ গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানি সংকটের কারণে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। সরকারি ভাবে অনেক দেন দরবার করা হয়েছে। প্রতিশ্রুতির আশ্বাস মিলেছে কিন্তু বাস্তবতা অনেক কঠিন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় সিদ্দিকনগর, মোমিনপাড়া, সাহেবজোত, ঈদগাবস্তী ও পুরাতন বাজারসহ অন্তত ৬টি গ্রামের টিউবওয়েলগুলো অচল হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা সদর উপজেলার নদী বেষ্টিত রাজা পাড়ের ডাঙা ও মীরগড় এলাকাতেও। ফলে বাসিন্দারা নির্ভর করছে সীমান্তের শূন্য রেখায় মহানন্দা নদীর পাশে থাকা সরকারি একটি টিউবওয়েলের ওপর।

তেঁতুলিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, অসংখ্য নদ নদী প্রবাহিত হয়েছে এই সীমান্ত জনপদ দিয়ে যার সবগুলোর উৎস মুখ ভারতে। তারা একতরফা বাঁধ নির্মান করে নদী শাসন করছে। ফলে বাংলাদেশের অংশের নদ নদীগুলো বর্তমানে মরা খালে পরিণত হওয়ায় পানির স্বাভাবিক স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। হাহাকার উঠেছে পানির জন্যে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে সরকারের দ্রুত এগিয়ে আসা দরকার।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়া, সমতল ভূমি কেটে পাথর উত্তোলনসহ কৃষি জমিতে ভারী সেচ পাম্প স্থাপনের কারণে পানির স্বাভাবিক স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এই দুর্ভোগ। বিষয়টি নিরসনে কমিউনিটি ভিত্তিক সাবমার্সিবল পাম্প অথবা তারা পাম্প স্থাপনের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, পানি সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে সাবমার্সেল ও পাম্পের চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন