দিনাজপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছেছেন আড়াই হাজার কসাই

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর

দিনাজপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছেছেন আড়াই হাজার কসাই

ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাই ও কাটাকাটির জন্য দিনাজপুর থেকে এবারো প্রায় আড়াই হাজার কসাই ঢাকায় পৌঁছেছেন।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে একযোগে ৬৫ জনের কসাইয়ের একটি দল ঢাকার উদ্দেশে দিনাজপুর ছাড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে যোগাযোগ করে পেশাদার এবং মৌসুমি কসাইরা ঢাকায় যান।

বিজ্ঞাপন

দিনাজপুর জেলা শহর ছাড়াও পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর স্টেশনেও অনেক কসাই বুধবার বিভিন্ন ট্রেনে দিনাজপুর ছেড়েছেন। যেসব উপজেলায় ট্রেন যোগাযোগ নেই তারা ঢাকাগামী বাসে সড়ক পথে ঢাকায় গেছেন। তবে এদের টিম লিডারদের অনেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে ঢাকা যাচ্ছেন বলে এয়ারের টিকিট বিক্রি করেন এমন একাধিক এজেন্টের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

অভিজ্ঞতা না থাকায় কোরবানির পশু জবাই ও কাটাকাটি নিয়ে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। আর এ সংকট সবচেয়ে বেশি রাজধানী ঢাকায়। কারণ এ সময়টাতে কসাইদের বেশ সংকট থাকে। এ অবস্থায় ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে অনেকেই যখন বাড়ি ফিরছেন, তখন বাড়তি আয়ের আশায় কসাইরা পাড়ি জমাচ্ছেন ঢাকায়। বাস-ট্রেনের পাশাপাশি অনেকে বিমানে করেও ঢাকায় গেছেন বলে জানা গেছে। ঈদের তিন থেকে চারদিন তারা ঢাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন এলাকায় কুরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজ করবেন।

দিনাজপুরে বিমানের টিকিট বিক্রেতা একাধিক ট্রাভেলসের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন কসাই বিমানের টিকিট নিয়েছেন। তারা বুধবার সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে শেষের কয়েকটি ফ্লাইটে ঢাকায় যাবেন। কারণ ঈদের আগে ঢাকাগামী এবং ঈদের পরে ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী যাত্রীর চাপ কম থাকায় কম মূল্যে বিমানের টিকিট পাওয়া যায়। আবার যানজট এড়ানোসহ সময় কম লাগে, তাই তারা বিমানে যাতায়াত করেন। অনেকেই ফিরতি টিকিটও কেটে রেখেছেন।

বেঙ্গল ট্রাভেলসের মালিক তোফায়েল আহম্মেদ জুয়েল বলেন, সৈয়দপুর থেকে বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার ও ইউএস বাংলায় ঢাকায় যেতে ৪৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আজহার আলী নামে একজন কসাই তার কাছ থেকে শুক্রবার রাতের ফ্লাইটে ঢাকায় যাওয়ার টিকিট নিয়েছেন। তিনি ফিরতি টিকিটের জন্যও বলে রেখেছেন। একদিনে আয় লাখ টাকা, দিনাজপুর থেকে ঢাকায় ছুটছেন আড়াই হাজার কসাই।

দিনাজপুরের কয়েকজন কসাইয়ের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে তাদের অনেকেই বিমানে, ট্রেনে ও বাসে করে ঢাকায় পৌঁছেছেন, আবার কেউ কেউ ঢাকার পথে রয়েছেন।

ঢাকায় যাওয়ার আগেই তারা চুক্তি করে যান পশু জবাই ও মাংস কাটার দরদাম নিয়ে। যারা পশু জবাই দেবেন তাদের সঙ্গে আগেই চুক্তিবদ্ধ হন তারা।

স্থানীয় কসাইরা জানান, এবার পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য রেট ধরা হয়েছে পশুর দামের প্রতি হাজারে ২৫০ টাকা। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা দামের পশু হলে কসাইদের জবাই ও মাংস কাটার জন্য দিতে হবে আড়াই হাজার টাকা। আর লাখ টাকার পশুর জন্য কসাইকে দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা। পশুর দামের ওপর নির্ধারণ করেই বাড়বে কসাইদের রেট। একইসঙ্গে তাদের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাও করতে হয় পশু ক্রেতাদেরই।

তারা আরও জানান, এখানকার কসাইদের সুবিধা হচ্ছে ঈদের আগে হওয়ায় ঢাকায় যাওয়ার টিকিটের কোনো চাপ থাকে না। প্রয়োজনের তাগিদে অনেকে বিমানে, ট্রেনে ও বাসে করে ঢাকায় গেছেন ও ঢাকার পথে রয়েছেন। আবার ঈদের পরে ঢাকা থেকে দিনাজপুরে আসার টিকিটও সহজে পাওয়া যায়, কোনো ভিড় থাকে না। ফলে তাদের বাড়তি আয় হয় ঝামেলা ছাড়াই। বিভিন্ন লোক মারফত কিংবা অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরইমধ্যে কসাইদের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছেন পশু ক্রেতারা। আর সেই হিসেবে কসাইরাও রওনা হয়েছেন রাজধানীর উদ্দেশে।

দিনাজপুর শহরের বাজারের আমিনুল ইসলাম নামে একজন কসাই জানান, তারা বুধবার দুপুরে ৬৫ জনের একটি দল দিনাজপুর স্টেশন থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একেক জন ৪০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তি করেছেন।

দিনাজপুর কসাই সমিতির সভাপতি ভুট্টো ও সাধারণ সম্পাদক সনু বলেন, দিনাজপুর শহর থেকে কমপক্ষে ৫০০ কসাই ঢাকায় যাবে। এছাড়াও অন্যান্য উপজেলা থেকে কসাইরা প্রতিবার ঢাকায় যান। আবার কিছু সিজনাল কসাই রয়েছেন। সব মিলিয়ে দিনাজপুর জেলা থেকে প্রায় আড়াই হাজার কসাই আজ বুধবার রাতের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছাবে।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...