আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আগাম জাতের সরিষায় বাম্পার ফলন, মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক

জেলা প্রতিনিধি, নীলফামারী

আগাম জাতের সরিষায় বাম্পার ফলন, মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক

নীলফামারীতে এ বছর আগাম জাতের সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানের সরিষা ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। কম সময়ে ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় সরিষা চাষে দিনে দিনে তাদের আগ্রহ বেড়েছে। আলু চাষে লোকসানের কারণে অনেক কৃষক এখন সরিষা চাষে ঝুঁকছেন। কারণ এতে খরচ কম এবং লাভও বেশি হয়। তাই এ বছর জেলায় সরিষা আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত দেড় হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি প্রণোদনা, অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত জাতের কারণে বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। সাধারণত ডিসেম্বরের মধ্যভাগ থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মাঠ থেকে সরিষা তুলে বাড়ির উঠোনে গাদি করে রাখেন কয়েক দিন। বেশি পেকে গেলে সরিষার দানা ফেটে গিয়ে প্রচুর অপচয় হয়। তাই কৃষেরা আধাপাকা অবস্থায় সরিষা সংগ্রহ করেন।

স্বল্প সময়ে ভালো ফলন ও উচ্চ বাজারমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দিনে দিনে এর চাহিদা বাড়ছে, বিশেষ করে কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা, সরকারি সহায়তা, উন্নত বীজ ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রমতে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ছয়টি উপজেলায় আগাম জাতের বারী-০৯, ১৪, ১৫ ও ১৮ এবং টোরী-০৭ জাতের সরিষা জেলায় চাষাবাদ করা হয়েছে। এবার গোটা জেলায় ৯ হাজার ২৩ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা এ পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় দেড় হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষাবাদ হয়েছে। বাম্পার ফলনের কারণে কৃষকের মুখে হাসি ফুঁটে উঠেছে। এই এলাকায় গত বছর চাষাবাদযোগ্য বিস্তর জমিতে আলু চাষাবাদ করে লোকসানের মুখে পড়েন অনেকে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা সরিষা চাষাবাদে ঝুঁকেছেন।

জেলার কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নারী উদ্যোক্তা চাষি শামিমা নাসরিন বলেন, ‘প্রতি বছর প্রায় সব জমিতে আলু চাষ করতাম। আলুর দরপতনের কারণে তিন বিঘা জমিতে আগাম জাতের সরিষা চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠ থেকে ফসল তুলে উঠোনে গাদি করে রেখেছি। এর মধ্যে মাড়াই করব। আশা করি বিঘাপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় মণ পর্যন্ত সরিষার ফলন হবে।’

সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের মানুষগড়া গ্রামের সরিষাচাষি মোসফিকুর রহমান জানান, ‘আমি প্রতি বছর সরিষার চাষাবাদ করি। এবার আগাম করে ফলন খুব ভালো পেয়েছি। নিড়ানি, সেচ, সার, মাড়াই খরচ বাদ দিয়েও স্বল্প সময়ে ভালো লাভ আসে সরিষায়। জ্বালানির জন্য সরিষাগাছের খড়ের জুড়ি নেই। সংসারে বড় কাজে আসে। বাড়িরও খাঁটি ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ হয়। এ জন্যই আমি প্রতি বছর সরিষা চাষাবাদ করি। আমন ধান কাটার পরেই আগাম জাতের সরিষা রোপণ করেছিলাম।’

নীলফামারী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর রহমান জানান, ‘আমরা প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করেছি। জেলায় সরিষার চাষাবাদ ব্যাপক হয়। স্বল্প খরচে কৃষকেরা সরিষা চাষাবাদ করতে পারেন। ধান কাটার ১৫ দিন আগে বিঘাপ্রতি দেড় কেজি পর্যন্ত ধানক্ষেতে সরিষার বীজ ছিটিয়ে দিলে সিক্ত জমিতে সরিষা হয়। এতে সেচ ও নিড়ানি অনেক সময় প্রয়োজন হয় না। ধান কাটলেও ছোট সরিষাগাছের কোনো ক্ষতি হয় না। এতে খরচও সাশ্রয় হয় এবং আগাম বাম্পার ফলন পাওয়া যায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...