দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে বিভাগীয় যুগ্ম নিবন্ধকের কার্যালয়।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা সমবায় অফিসার ও তদন্তকারী প্রধান কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান এবং জেলা সমবায় কার্যালয়ের পরিদর্শক মঞ্জুর আলম ব্যাংকের কার্যালয়ে গিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তদন্ত শেষে উপজেলা সমবায় অফিসার ও তদন্তকারী প্রধান কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মৌলিক বক্তব্য নোট করা হয়েছে। তারা যেসব কাগজপত্র দিতে পেরেছেন, সেগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। আর যেসব কাগজপত্র দিতে পারেননি, সে বিষয়ে মৌখিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তদন্তে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে।”
তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যাংকের হিসাবরক্ষক প্রদীপ কুমার সরকার ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর খায়রুন নাহার উপস্থিত ছিলেন। তবে ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে গত ১৯ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ৬ নম্বর পৃষ্ঠায় “রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক: জেলে বসেই নিয়ন্ত্রণ করছে আওয়ামী লীগ নেতা তুষার” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর থেকেই সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং পরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
সংবাদ প্রকাশের পরও অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে পুনরায় বেতন প্রদান করা হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা এবং রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন বলেন, “তাদের অভাব-অনটনের কথা বিবেচনা করেই বেতন দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বিভাগীয় নিবন্ধক মুখলেসুর রহমান বলেন, “এর আগেও তদন্ত করে ব্যাংক পরিচালনা পরিষদকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল। অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তাসহ এ ঘটনায় জড়িত কাউকে বেতন-ভাতা প্রদান করা হলে, সেই দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

