বাংলাদেশি লুতফরের শিল্পকর্ম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সৌদি বাদশাহর বাসভবনে!

বাংলাদেশি লুতফরের শিল্পকর্ম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও সৌদি বাদশাহর বাসভবনে!

রঙ-তুলি দিয়ে ছবি তৈরি করা হয় এটা সবার জানা থাকলেও ডিমের খোসা দিয়ে ছবি তৈরি অনেকটাই ব্যতিক্রম। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এমনই ব্যতিক্রমী ছবি তৈরি করছেন কুড়িগ্রামের চিত্রশিল্পী লুতফর রহমান।

বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বরের পাশেই জরাজীর্ণ ছোট্ট একটি দোকানে ডিমের খোসা দিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিল্পী, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি বানিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন। তিনি এই দোকানের নাম দিয়েছেন আশা বিশ্বছবি জাদুঘর।

প্রায় ৪০ বছর আগে ছোট ছোট টাইলসের টুকরো দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল তৈরি করা দেখে ডিমের খোসা দিয়ে ছবি তৈরির ধারণা মাথায় আসে লুতফর রহমানের। তারও পাঁচ বছর পর অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ৩৫ বছর আগে ইত্যাদির জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেতের ছবি তৈরির মাধ্যমে ডিমের খোসা দিয়ে ছবি তৈরি শুরু করেন চিত্রশিল্পী লুতফর রহমান। এরপর একে একে তৈরি করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের ছবি।

সাহিত্যপ্রেমের বহিঃপ্রকাশও ফুটে ওঠে তার শিল্পকর্মে। তৈরি করেছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যা সাগরসহ বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের ছবি।

তার সুনিপুণ হাতের ছোঁয়া লেগেছে বহির্বিশ্বের নেতাদের ছবিতেও। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তার স্ত্রী লরা বুশ, ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন, ফিলিস্তিনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইয়াসীর আরাফাত, সৌদি প্রেসিডেন্ট সালমান বিন আব্দুল আজিজ ও হিলারি ক্লিন্টনের ছবি শোভা পাচ্ছে তার জাদুঘরে।

দেশপ্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে তৈরি করেছেন সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি।

এদের মধ্যে জর্জ বুশ ও সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজকে আশা বিশ্বছবি জাদুঘরের পক্ষ থেকে ডিমের খোসা দিয়ে তৈরি ছবি উপহার হিসেবে পাঠানো হয়। তারা সেই ছবির প্রাপ্তিও স্বীকার করেছেন। প্রাপ্তির স্বীকারপত্র তার জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ তার ছবি উপহার পেয়ে শিল্পী লুতফর রহমানকে ডেকে পুরস্কৃত ও সনদ প্রদান করেন।

ব্যতিক্রম উপকরণ দিয়ে তৈরি ছবির ছোট্ট এই জাদুঘরটি প্রদর্শন করতে দেশ বিদেশের অনেকেই আসেন। এখনও মানুষ তার জাদুঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকিয়ে দেখেন অদ্ভুত চিত্রকর্মগুলো।

শিল্পী লুতফর রহমানের ডিমের খোসা দিয়ে তৈরি ছবি ও আশা বিশ্বছবি জাদুঘর সম্পর্কে রোকনুজ্জামান বলেন, কোনো কিছু যে ফেলনা নয় তা এই জাদুঘরে এলে বোঝা যায়। ডিমের খোসা দিয়ে এত সুন্দর সুন্দর ছবি তৈরি করা যায়, না দেখলে বিশ্বাস হবে না। ত্রিশ বছর আগে তৈরি করা ছবিগুলো দেখলে মনে হয় এখনো নতুন।

দর্শনার্থী মিয়া বলেন, আমি প্রায়ই এ রাস্তা দিয়ে যাই। যাওয়ার সময় এ ছবিগুলো চোখে পড়ে। আমি অবাক হয়ে যাই ডিমের খোসা দিয়ে কীভাবে ছবি তৈরি করে। ছবিগুলো অত্যন্ত চমৎকার এবং নিখুঁতভাবে তৈরি করা।

আশা বিশ্বছবি জাদুঘরের মালিক শিল্পী লুতফর রহমান বলেন, ডিমের খোসা দিয়ে একেকটা ছবি তৈরি করতে এক থেকে দেড় বছর সময় লেগে যায়, যার স্থায়িত্ব হবে ১০০ বছর। ডিমের খোসা দিয়ে এর আগে বিশ্বের আর কেউ ছবি তৈরি করেনি। এই ধারার আমিই প্রবর্তক। অনেক কষ্টে তৈরি এসব ছবি আমি কখনো বিক্রি করি না। আমার কষ্টের মূল্যায়ন কেউ করতে পারবে না। আমার কোনো চাওয়া নেই। শুধু একটাই চাওয়া, অনেক কষ্টে তৈরি করা আমার এই ছবিগুলো সরকার যেন জাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখে।

বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক শাহ মোহাম্মদ জোনায়েদ বলেন, লুতফর রহমানের ডিমের খোসা দিয়ে তৈরি ছবিগুলো একদম ব্যতিক্রম। আমরা বিসিকের পক্ষ থেকে তার এই কাজ গতিশীল রাখার জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। আমাদের বিসিকের মেলাগুলোতে তার চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবো।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন