মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পুলিশের আইনশৃঙ্খলা সভায় অতিথির আসনে বসে বক্তব্য দিয়েছেন দুই আওয়ামী লীগ নেতা। এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় এক সভায় বসে আছেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম, আরেক সভায় বসে আছেন উপ-পুলিশ পরিদর্শক বাবলু পাল।
জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ জুলাই) রাতে উপজেলার ৬ নং আশিদ্রোন ইউনিয়নের ভুজপুর বাজারে বিট পুলিশিংয়ের সভায় অতিথির আসনে বসে আছেন মো. ফরিদ মিয়া। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য। এ সভায় উপস্থিত ছিলেন এসআই বাবলু পাল। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লিটন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, ফরিদ মিয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দাপটে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, জুলাই ছাত্র আন্দোলনে হামলার নেতৃত্বসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ৪ আগস্ট শ্রীমঙ্গল চৌমুহনা চত্বরে লাঠিসোটা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছাত্র আন্দোলন দমাতে অবস্থান করেছিলেন। এরআগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দমনপীড়নে মিথ্যা মামলাসহ নানা অজুহাতে উপজেলা বিএনপির অনেক নেতাকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিলো ফরিদ মিয়ার বিরুদ্ধে।
এ দিকে ২০ জুন একই ইউনিয়েনের গাজীপুর এলাকায় মাদকবিরোধী একসভায় ওসির উপস্থিতিতে উপজেলা শ্রমিকলীগের সদস্য সচিব মো. আরজু মিয়া অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমরা সবই একজন (পুলিশ) অফিসার হতে হবে। আমরা ভেঙে যাব, মচকাব না’ এই বক্তব্য ঘিরেও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলা শ্রমিকলীগের সদস্য সচিব আরজু মিয়া ও আশিদ্রোন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ফরিদ মিয়াকে আইনশৃঙ্খলা সভায় অতিখির আসনে মিটিং করা এটি কোনোভাবেই মেনে নেয়ার মতো নয়। পুলিশের এ ভুমিকা জুলাই আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলনে বীর শহীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। শ্রীমঙ্গলের পুলিশ আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসী ও গডফাদার চেয়ারম্যানদের ধরতে চাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে মিটিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বিট অফিসার বাবলু পাল বলেন, আমরাতো ছোটো মানুষ। এদের ধরতে সিনিয়রদের পারমিশন লাগবে। তিনি অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী দোসরদের প্রত্যাহারের দাবি জানান।
শ্রীমঙ্গল থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, বর্তমান ওসি ৫ আগস্টের আগে থেকে শ্রীমঙ্গল থানার তদন্ত ওসি ছিলেন। বর্তমানে ওসির দায়িত্বে থাকায় আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীরা সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। তাকে শ্রীমঙ্গল থানায় রেখে আওয়ামী লীগের পলাতক সন্ত্রাসীদের আটক করা যাবে না। বরং পুনর্বাসন হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে আইনশৃখলা মিটিংয়ে বক্তব্য দেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাবলু পাল বলেন, ‘না, ভাই আমি আসলে তাদের চিনি না। ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। দেখিও নাই কখনো। না চেনার কারণে এটা হয়েছে। তাদের বক্তব্য শেষে বুঝেছি,এই লোক সেই লোক’।
এ প্রসঙ্গে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যেটাতে ছিলাম ওইটা স্থানীয় গাজীপুর এলাকাবাসীর উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলার সভা আয়োজন করেছে। এখানে বিএনপি ও ছাত্রসমাজের নেতারাও ছিল, অন্যরাও ছিলো। এখন কে কোন লোক সবতো জানার কথা না। সে বড় মাপের কোন নেতাও না। আর শুক্রবার এসআই বাবলু যে মিটিং করেছিল সে ফরিদ মেম্বারকে চিনতো না। সে কয়দিন আগে জেল খেটে এসেছে। ওই মিটিং চলাকালে তাকে কেউ দাওয়াতও দেয় নাই। সে বোধহয় এখানে উপস্থিত হয়েছে, বিট অফিসার যদি চিনতো তাকে তাহলে এমন হতো না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

