সারা দেশে নদনদীতে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও বন্ধ হচ্ছে না বালুখেকোদের তৎপরতা। আগে আ.লীগের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে এই বালু ব্যবসা চললেও এখন বিএনপি ও আ.লীগের নেতাকর্মীদের যৌথ তৎপরতায় চলছে বালু উত্তোলনের ব্যবসা।
রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া, নদী ও কৃষিজমি থেকে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। মামলা ও জরিমানার পরও থামছে না বালুখেকোদের দৌরাত্ম্য। এতে বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সেইসঙ্গে পরিবেশগত ক্ষতি, পাহাড়ি ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া, কৃষিজমির ক্ষয় এবং গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বালুমহালগুলো দ্রুত ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবৈধভাবে উত্তোলন করা প্রায় ১০ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের বিলাশছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব বালু জব্দ করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুল ইসলাম। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে জব্দ করা বালু স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলাম বলেন, জব্দ করা বালুর বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের এওলাছড়া থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন এ ছড়া থেকে কয়েকশ ফুট বালু তুলে বিক্রি করছে একটি চক্র। প্রশাসনের দৃষ্টির আড়ালে ছড়া থেকে বালু তুলে বিক্রি করার কোনো তথ্য নেই ভূমি অফিসে।
জানা গেছে, মনিপুর চা বাগানের পাশ ঘেঁষে ২ নম্বর ইউনিয়নের এওলাছড়া পুরান বাজার হয়ে নিজামপুর পালবাড়ী হয়ে কুশিয়ারা নদীতে মিশেছে ছড়াটি। সেই ছড়ার কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি ভূমিখেকো চক্র। দীর্ঘদিন এই ছড়াটি বালুমহাল হিসেবে ইজারা দিয়ে আসছিল প্রশাসন। সর্বশেষ ২০১৩ সালে ছড়াটির লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে খনিজ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় এটার মধ্যে খনিজ পদার্থ রয়েছে। এর ফলে সেই লিজ প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়। এর পর থেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১২ বছর জুলাই অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত ছড়াটি অবৈধভাবে দখল করে ভোগ করে আসছিল। এতে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারায়।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিজুন্নাহার বলেন, ফেঞ্চুগঞ্জে বালুমহাল আছে আমাকে কেউ বলেনি। আমি সরেজমিন যাব, কেউ যদি বেআইনিভাবে কোনো ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

