সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরের গুরুত্বপূর্ণ উজ্জ্বলপুর বেড়িবাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভীমখালী ইউনিয়নের উজ্জ্বলপুর পুরাতন বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত এই বেড়িবাঁধটি এলজিইডির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে পাগনার হাওরের ফসল রক্ষার জন্যও বাঁধটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কাবিটা প্রকল্পের অর্থায়নে ৪১টি বাঁধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করলেও উজ্জ্বলপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধটিতে কোনো কাজ হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙন দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে বাঁধের পাশে ও নদী তীরবর্তী বসতবাড়ির মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে ভাঙনস্থলের পাশ দিয়ে জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এলজিইডি সড়কটিও ঝুঁকিতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের আকস্মিক বন্যায় উজ্জ্বলপুর বেড়িবাঁধ ভেঙে জেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একমাত্র সড়ক জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
উজ্জলপুর গ্রামের ব্যবসায়ী এমদাদুল হক বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙার কারণে আমাদের আমন ফসলের বিরাট ক্ষতি হবে। অনেক বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। যদি নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পায়, তাহলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে। এমনকি জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রাস্তা বিচ্ছিন্নও হতে পারে। বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরও বেড়িবাঁধটি মেরামত করা হয়নি। লাখ খানেক টাকা খরচ করলে এই বিপর্যয় দেখা দিত না। এই বাঁধটি ভাঙার কারণে কয়েকশ পরিবার আমন ফসল থেকে বঞ্চিত হবে। কৃষকের এই ক্ষতির দায়ভার কে নিবে। ইউপি চেয়ারম্যানকে বারবার বলার পরও কোনো কাজ হয়নি। হাওরের আমন ফসল, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়ক এবং নদী তীরবর্তী জনবসতি রক্ষায় বাঁধটিতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, উজ্জ্বলপুর বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে হাওরে পানি ঢুকায় আমন ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ঝুঁকিতে পড়বে ঐ অঞ্চলের আমন ফসল।
এ বিষয়ে ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তালুকদার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লক ও জিও টেক্স দিয়ে ভাঙা মেরামতের জন্য ইউএনও নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিকল্প হিসেবে বস্তা, ভিট বালু ও বাঁশ দিয়ে মেরামতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাৎক্ষণিক ব্লক ও জিও টেক্স দিয়ে কেন কাজ করা হলো না, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারী মালামাল বহনকারী লেবার এলাকায় না থাকায়, তাৎক্ষণিক ব্লক দিয়ে কাজ করা সম্ভব হয়নি। বস্তা, ভিট বালু ও বাঁশ দিয়ে কাজের চাহিদা দেওয়া হয়েছে, দুই-এক দিনের মধ্যে বরাদ্দ পেলে ভাঙা মেরামতের কাজ শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিল্পী রানি মোদক বলেন, কয়েকদিন পূর্বে বাঁধটির ভাঙা পরিদর্শন করেছি। বাঁধটি মেরামতের জন্য তাৎক্ষণিক পাউবোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ব্লক ও জিও টেক্স বস্তার ব্যবস্থা করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে দ্রুত কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। কেন চেয়ারম্যান কাজ করেনি সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করুন।
পাউবো সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, বাঁধটি জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ রাস্তা ও পাগনার হাওরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন ,ঠিকাদার নিয়োগ করে বাঁধটি মেরামতের কাজ করলে দেরি হবে, তাই চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বাঁধ মেরামতের মেরামতের জন্য পুরোনো ব্লক ও জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে ভাঙা বাঁধের কাজ দ্রুত শেষ করতে জোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

