শারদীয় দুর্গোৎসবে রঙিন মৌলভীবাজার, ৯৮০ পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি শেষপ্রান্তে

শারদীয় দুর্গোৎসবে রঙিন মৌলভীবাজার, ৯৮০ পূজামণ্ডপে প্রস্তুতি শেষপ্রান্তে

ঢাকের বাজনা বাজতে শুরু করেছে, আলপনা আঁকা হচ্ছে উঠোনে, আর মণ্ডপের চারপাশে ঝুলছে রঙিন আলো। মৌলভীবাজার এখন এক উৎসবের নগরী। শহর থেকে গ্রাম, হাট থেকে জনপদ— সবখানেই ভেসে আসছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী সুর।

বিজ্ঞাপন

এবার মৌলভীবাজার জেলায় অনুষ্ঠিত হবে ৯৮০টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিমাশিল্পীরা মূর্তিতে দিচ্ছেন শেষ তুলির আঁচড়, তরুণ-তরুণীরা ব্যস্ত সাজসজ্জায়, আর ভক্তরা অপেক্ষায় আছেন দেবী দুর্গার আগমনের।

দুর্গোৎসবকে ঘিরে বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রস্তুতিমূলক সভা। জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন সভায় বলেন— “জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করা হবে। কেউ যদি শান্তি-সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার (এসপি) এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে কোনো গুজব বা অপপ্রচার ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। গুজব রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও পুলিশের সমন্বিত টহল থাকবে। এবারের দুর্গোৎসবে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। “যারা এ উৎসবকে ভণ্ডুল করার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।”

পুলিশ সুপার আরও বলেন, “যেভাবে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে, ঠিক তেমনি আগামী জাতীয় নির্বাচনও জনগণের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করা হবে।” এ সময় তিনি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের প্রতি শালীন আচরণ ও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ৪৬ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইসতিয়াক আহমদ মোর্শেদ, ক্যাপ্টেন আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাস, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাস, এনএসআই উপপরিচালক মো. কবির হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মো: ফখরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো: ইয়ামীর আলী, প্রেসক্লাব আহবায়ক বকশী ইকবাল আহমদ প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলার সাত উপজেলার পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, মৌলভীবাজারের দুর্গোৎসব সবসময়ই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির আবহে উদযাপিত হয়ে আসছে। এবারের উৎসবও হবে মিলনমেলার।

এখন শুধু প্রতীক্ষা দুর্গার আগমনের। আলোসজ্জায় ঝলমল করবে মণ্ডপ, ঢাকঢোলের তালে ভরবে চারপাশ, ভক্তিমিশ্রিত আনন্দে মুখর হয়ে উঠবে মৌলভীবাজারের প্রতিটি জনপদ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন