আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ওসমানীনগরে বস্তায় লাউ চাষে যুবকের ভাগ্য বদল

নুরুল ইসলাম রেফুল, ওসমানীনগর (সিলেট)

ওসমানীনগরে বস্তায় লাউ চাষে যুবকের ভাগ্য বদল

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর ইউনিয়নের এক তরুণ কৃষক সেকব্যাগ ( বস্তায়) পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে এলাকায় সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি সুরতপুর গ্রামের মস্তাব আলীর ছেলে মো. সাহান মিয়া। পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার ছোট সাহান মিয়া নিজের মেধা, পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির কাছ থেকে মাত্র ১৫ শতক জমি বর্গা নিয়ে তিনি কৃষি কার্যক্রম শুরু করেন। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে ও সহযোগিতায় গত ২৪ আগস্ট ধানী ক্ষেতের দু’পাশের আইল ও অব্যবহৃত স্থান কাজে লাগিয়ে ৫০টি সেকব্যাগে (বস্তায়) আধুনিক জাতের লাউয়ের চারা রোপণ করেন। শুরু থেকেই উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুষম সার প্রয়োগ, নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলো লালন-পালন করে আসছেন তিনি। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও অক্লান্ত শ্রমের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেন।

বিজ্ঞাপন

ইতোমধ্যে সাহান মিয়া প্রায় ১ হাজার ৪৪৪টি লাউ বিক্রি করে ৬৪ হাজার ৩০০ টাকা আয় করেছেন। বর্তমানে গাছে আরও প্রায় ২০০টি লাউ রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ হাজার টাকা। শুধু আর্থিক লাভ নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তিনি এলাকার বিভিন্ন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে প্রায় ২০০টি লাউ বিতরণ করেছেন, যা তাকে এলাকায় আরও প্রশংসিত করেছে।

সাহান মিয়া জানান, স্বল্প খরচে অধিক ফলনের জন্য সেকব্যাগ পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। ধানী জমির আইল, বসতবাড়ির আশপাশের খালি জায়গা কিংবা পতিত জমি ব্যবহার করে সহজেই এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা সম্ভব। এতে জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় পরিসরে সেকব্যাগ পদ্ধতিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা করছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফ রব্বানী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ ও সুষম সার ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে স্বল্প জমিতেও উল্লেখযোগ্য ফলন পাওয়া যায়। সেকব্যাগ পদ্ধতি একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, এর মাধ্যমে পতিত জমি বা জলাবদ্ধ জমিতে স্বাভাবিক ভাবে মাটিতে পানি জমে থাকার কারণে বীজ/ চারা লাগানো যায় না সেখানে সেকব্যাগ ( বস্তায়) সহজেই করা যায়। এতে করে অফ সিজনেও ফসল উৎপাদন করা যায়। সাহান মিয়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে সঠিক দিকনির্দেশনা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে কৃষিক্ষেত্রে সফলতা অর্জন সম্ভব। উপজেলা কৃষি অফিস সহযোগিতা নিয়ে কৃষকের পাশে সবসময়ই থাকবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন