তাহিরপুরে যাদুকাটা নদী তীরে দুই দিনব্যাপী পণতীর্থ মহাবারুনী গঙ্গাস্নান । ২৬ মার্চ বুধবার রাত ১১টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয়ে চলবে ২৭ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২৪ মিনিট পর্যন্ত।এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিকট পুণ্যলাভে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে পরিচিত।
এ উৎসবকে ঘিরে যাদুকাটা নদী তীরে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে প্রতি বছর। এ বছরও তার ব্যতিক্রম নয়। অপর দিকে একই সময়ে উপজেলার লাউড়েরগড় সীমান্তে শাহ আরেফিন (র.) এর আস্তানায় ওরস ও মেলা বসার কথা থাকলেও এ বছর পবিত্র রমজান মাস ও শবে কদর থাকায় ওরস ও মেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
গঙ্গাস্নান বারুনী মেলাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেম জানিয়েছেন, স্নান, মেলা ও তার আশপাশ এলাকা সিসি ক্যামেরা দ্বারা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
ঐতিহাসিকদের মতে অতীতের পাপ মোচন, ঈশ্বরের আশীর্বাদ ও পুণ্য লাভের আশায় প্রতিবছর চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে কয়েক লাখ সনাতন ধর্মের অনুসারী নারী-পুরুষ অদ্বৈত আচার্য ঠাকুরের আবির্ভাবস্থল পণতীর্থ স্মৃতিধাম যাদুকাটা নদীর জলে পুণ্যস্নান করে পাপমোচন এবং ঈশ্বরের কৃপা লাভ করেন। তাঁদের বিশ্বাস, পণতীর্থ স্নানের মাধ্যমে মনোবাসনা পূর্ণ হয়।
১৫১৬ খ্রিষ্টাব্দে এই তীর্থের সূচনা করেন মহাপুরুষ শ্রী অদ্বৈত আচার্য ঠাকুর। তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে অদ্বৈত আচার্য মন্দির গড়ে উঠেছে যাদুকাটা নদীর তীরবর্তী রাজারগাঁও গ্রামে।
অন্যদিকে পণতীর্থ গঙ্গাস্নানের তারিখের সাথে মিল রেখে উপজেলার সীমান্তবর্তী লাউড়েরগড় এলাকায় শাহ আরেফিন (র.) এর বার্ষিক ওরস মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওরস উপলক্ষে
সেখানেও মেলা বসে। স্থানীয়দের ধারণা, হযরত শাহ আরেফিন এর মোকাম ভারত সীমান্তের ওপারে এক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত হলেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অগণিত মুসলমান নর-নারী ওরসে শরিক হন এবং দূর থেকেই মোকাম জিয়ারত করেন। ওরসে মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়াও হিন্দু-বেদ্ধৗ-খ্রিস্টান,পাহাড়ি ও বাঙালি ভক্ত-আশেকান শাহ আরেফিনের স্মৃতিবিজড়িত লাউড়েরগড় এলাকায় সমবেত হন। কিন্তু এ বছর পবিত্র রমজান মাস ও শবে কদরের দিন থাকায় প্রশাসন ওরস মোবারক বন্ধ রেখেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

