টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এখনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে ১২ উপজেলার জন্য ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।
শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে উজান থেকে ঢল অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং যাত্রীদের নৌকায় নদীপথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। এ ছাড়া হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের বাড়ির উঠানেও পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
তাহিরপুর উপজেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, “হাওর এখন পানিতে পরিপূর্ণ। বাঁধে ঢেউ আছড়ে পড়ছে। কোনো বাঁধ ভেঙে গেলে ঢেউয়ের আঘাতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষা এলেই বন্যার শঙ্কা আমাদের তাড়া করে।”
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩০ মিটার, যা মৌসুমি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার নিচে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। একই সময়ে জেলায় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ছাতক পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা ৮ দশমিক ৩৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। গত এক দিনে সেখানে পানির উচ্চতা বেড়েছে ২১ সেন্টিমিটার। একই সময়ে ছাতকে ১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৭ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৪২ সেন্টিমিটার কমেছে। এদিকে লাউড়েরগড় এলাকায় একই সময়ে সর্বোচ্চ ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, “নদ-নদীর পানির উচ্চতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে পানির প্রবণতা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, “সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১২ উপজেলায় ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য ৪৯২টির বেশি নৌযান, সহস্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত চাল ও শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও)সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় হাওরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

