আ.লীগ নেতার নিরাপদ আশ্রয় শ্রমিক ইউনিয়ন, বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে

আ.লীগ নেতার নিরাপদ আশ্রয় শ্রমিক ইউনিয়ন, বৈষম্যবিরোধী মামলার আসামি হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে
জেলা আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে বামে চিহ্নিত সজিব আলী

বাস-মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সজীব আলী। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় একাধিক মামলা থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বহু পরিবহন শ্রমিককে রোষানলে ফেলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বর্তমানে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যেও তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, যা যেকোনো সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির রূপ নিতে পারে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার দুটি মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি মো. সজীব আলী। ২০০৩ সালে সরাসরি ভোটে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর পরবর্তীতে তিনি যুগ্ম সম্পাদক হন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের অনুমোদিত কমিটির ৮ নম্বর সহসভাপতি পদে রয়েছেন। মূলত শ্রমিক ইউনিয়নের পদটিকে তিনি তার ক্ষমতার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা আত্মগোপনে গেলেও সজীব আলী নিজেকে আড়াল করে দলীয় তৎপরতা অব্যাহত রাখেন। গ্রেপ্তার এড়াতে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকার মাধ্যমে দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তবে রাজনৈতিক নেতারা এটিকে তার একটি প্রতারণামূলক কৌশল হিসেবেই দেখছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, গত ৪ আগস্ট হবিগঞ্জ জেলা শহরে ছাত্র আন্দোলন নস্যাৎ করতে সজীব আলী আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এর পর্যাপ্ত ভিডিও ও তথ্যপ্রমাণ স্থানীয়দের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

শ্রমিক নেতা ও সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, সজিব আলী শ্রমিক ইউনিয়নকে একচ্ছত্র রাজতন্ত্রে পরিণত করেছেন। ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর নির্বাচনে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিপক্ষ প্যানেলকে পরাজিত করান, যা নিয়ে লেবার কোর্টে মামলা করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, সজীব আলীর পাওনা টাকা চাইতে গেলে শ্রমিক শাহিন ভান্ডারীকে গত ১২ বছর ধরে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারের পতনের পর সজীব আলী লিখিত দিয়ে এক বছরের ছুটির ঘোষণা দিলেও প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা হারে ইতিমধ্যে ৩ লাখ টাকা ভাতা এবং অন্যান্য অজুহাতে প্রায় ১ লাখ টাকাসহ কল্যাণ ফান্ডের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে দাবি করেন শ্রমিক নেতা দিয়ারিছ মিয়া।

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ ও সদর উপজেলা বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. উজ্জ্বল মিয়া অভিযোগ করেন, সজিব আলী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং সম্প্রতি জেলা যুবলীগ নেতাদের অর্থায়ন করে রাজনৈতিক মিছিল করিয়েছেন। কোনো অশুভ শক্তির আশ্রয়ে তিনি এখনো গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছেন—এমন প্রশ্ন তুলে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক জানান, উল্লেখিত ব্যক্তি এজাহারনামীয় আসামি কি না, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। তবে জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে তার কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন