আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় রেজিনা নাসের

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় রেজিনা নাসের

সংরক্ষিত নারী আসনে মৌলভীবাজারে আলোচনায় এখন রেজিনা নাসের। তিনি সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পুত্রবধূ ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি এম নাসের রহমানের স্ত্রী। ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি।

বিজ্ঞাপন

ওয়ান ইলেভেনের পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট সদর ও মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে নির্বাচন করেন এম সাইফুর রহমান। সেসময় বিএনপির রাজনীতিতে অভিষেক হয় রেজিনার। এরপরই বিএনপির প্রার্থী শ্বশুরের পক্ষে নির্বাচনি মাঠে নেমে পড়েন। বাড়ি-বাড়ি ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে উঠান বৈঠকে যোগ দেন। নিয়মিত অংশ নেন নির্বাচনি সভা সমাবেশেও। ছিলেন নির্বাচনি এলাকার কো অর্ডিনেটরের দায়িত্বেও। স্বামী নাসের রহমান কারাগারে থাকলেও ভোটের মাঠে তার অভাব বুঝতে দেননি রেজিনা। নাসের রহমান তখন জেলে। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী শ্বশুরের নির্বাচনি প্রচারে পরিবারের পক্ষ থেকে একাই ছিলেন তিনি। সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত অভিরাম ছিলো তার নির্বাচনি কার্যক্রম।

২০১৮ সালে স্বামী নাসের রহমানের নির্বাচনি এলাকায় কাজ করেন রেজিনা। এ নির্বাচনে তৃণমূলে নারী ভোটের জাগরণ হয় তার মাধ্যমে। তিনি ও তার কন্যা আমিরা রহমান রাতদিন সমানতালে উঠান বৈঠক, নির্বাচনি সভা-সমাবেশ করেন। বিশেষ করে চা বাগানে নারী শ্রমিকদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও নির্বাচনি সমাবেশ করেন। যার ফলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হন।

এবার সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হয়ে মৌলভীবাজার তথা বৃহত্তর সিলেটের নারীদের জাগরণের জন্য জাতীয় সংসদে বিশেষ ভূমিকা রাখতে চান রেজিনা। তিনি বলেন, শ্বশুর এম সাইফুর রহমানের সুনাম কাজে লাগিয়ে সিলেট বিভাগের মতো কনজারভেটিভ এলাকায় বিএনপির মতো জনপ্রিয় সংগঠনে নারীদের জাগরণ ঘটিয়ে বিশাল দুর্গ গড়ে তুলে তারেক রহমানের হাতকে আরো শক্তিশালী করতে চাই। তিনি আশাবাদী দল যদি তাকে বিবেচনা করেন তাহলে সিলেট বিভাগে নারীদের মাঝে বিএনপির আদর্শ ও ৩১ দফার জাগরণ ঘটাতে সক্ষম হবেন।

সদর উপজেলার জগন্নাথ পুর গ্রামের উজ্জ্বল বলেন, ম্যাডাম রাজনীতি হিকি লাইছইন বাস্তব যেই টা। আমরার এবারকুর জাতীয় নির্বাচনো জান ধরি কাজ করছইন। বড় বড় মহিলা সমাবেশ করি মাঠ গরম করছইন। খালি ইবার নায় সাইফুর রহমান স্যারেরও নাসের রহমান স্যারের আরো দুইবার তিনি কাজ করছইন।

একাটুনা ইউনিয়নের আব্দুল করিম ইমানী বলেন, ‘ম্যাডামে যে পলিসিতে কথা জানাইন যে ভাষা ব্যবহার করইন মানুষের একেবারে জান গলি যায়।’

রাজনগরের মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ইবার নাসের রহমান সাবের নির্বাচনি তৃণমূলে ওয়ার্কিংটা কে বেশি করছে ভোটটা কার ডাকে আইছে একমাত্র তান ফ্যামেলি এ পাস করাইছে। ই কথা কইয়া দলরে ছোট কররাম না। যা কইরাম সত্যি কথা। ইবার নারী ও হিন্দু যে ভোটারগুলা সেন্টারে আইছে ম্যাডামের কথায় ম্যাডামের মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার আমিরা রহমানের কথায় সেন্টারে গেছে। ম্যাডাম এমপি অইতা আমরা চাই।

জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য মো. আবদুল মুকিত বলেন, রেজিনা নাসের একজন উচ্চশিক্ষিত কর্মীবান্ধব নেত্রী। সংরক্ষিত মহিলা আসনে তাকে দল যদি মনোনীত করে তাহলে ভালো হয়। তিনি আপাদামস্তক একজন কর্মীবান্ধব নেত্রী। বিগত সাইফুর রহমান স্যারের ইলেকশনসহ নাসের রহমান সাহেবের দুটি ইলেকশন বিশেষ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে হিন্দু মুসলিম চা বাগানের নারী-পুরুষ সকলের কাছে প্রিয় ও আস্থাভাজন হয়ে উঠেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাশ বলেন, তিনি এ দলের লাগি যথেষ্ট পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমিতো অবাক হয়েছি যারা আনাচে কানাচে নামার কথা না কোনোদিন যারা সোনার চামচ নিয়ে জন্মছেন এরা এই মানুষের কাছে পায়ে হেঁটে হেঁটে সমস্ত নির্বাচনি এলাকায় কষ্ট করেছেন আর মানুষের কাছে ছুটে গেছেন। এই আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পেছনে তার যথেষ্ট অবদান আছে। যদি তাকে মহিলা আসনে এমপি মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে দল উপকৃত হবে।

রেজিনা নাসের বলেন, আমিতো একটা রাজনৈতিক পরিবারের সাথে যুক্ত। আর সাইফুর রহমান সাহেব দেশের জন্য কি করেছেন সবাই জানেন। উনার প্রত্যেকটা কাজ আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। অনেক কিছু শিখেছি উনার থেকে। তণমূলসহ সব স্তরের নেতৃবৃন্দ আমাকে পছন্দ করেন। শ্বশুর এম সাইফুর রহমানের সুনাম কাজে লাগিয়ে সিলেট বিভাগের মতো কনজারভেটিভ এলাকায় বিএনপির মতো জনপ্রিয় সংগঠনে নারীদের জাগরণ ঘটিয়ে বিশাল দুর্গ গড়ে তুলে তারেক রহমানের হাতকে আরো শক্তিশালী করতে চাই।

তিনি আশাবাদী দল যদি তাকে বিবেচনা করেন তাহলে সিলেট বিভাগে নারীদের মাঝে বিএনপির আদর্শ ও ৩১ দফার জাগরণ ঘটাতে সক্ষম হবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন