আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

হারিয়ে যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

হারিয়ে যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা

সীমান্তবর্তী জেলা সুনামগঞ্জের চার উপজেলায় বসবাসরত বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংরক্ষণ ও চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অভাব, শিক্ষাব্যবস্থায় নিজস্ব ভাষার অন্তর্ভুক্তি না থাকা এবং সামাজিকভাবে উপহাসের শিকার হওয়ার কারণে নতুন প্রজন্ম দ্রুত মাতৃভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা সদর থেকে দূরবর্তী ছাতক, দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় খাসিয়া, হাজং, গারো, চাকমাসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করেন। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী এসব এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার আদিবাসীর বাস। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য থাকলেও ভাষা সংরক্ষণের কোনো কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় আদিবাসী নেতারা জানান, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে তাদের মাতৃভাষার কোনো বই বা বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে শিশুরা বিদ্যালয়ে বাংলা ভাষাভিত্তিক শিক্ষায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং নিজস্ব ভাষা চর্চার সুযোগ পাচ্ছে না। পরিবারেও ধীরে ধীরে মাতৃভাষার ব্যবহার কমে যাচ্ছে।

তাহিরপুর উপজেলার এক শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ে নিজস্ব ভাষায় কথা বললে সহপাঠীদের কাছ থেকে কটূক্তি ও ঠাট্টার শিকার হতে হয়। এ কারণে অনেকেই লজ্জা ও সংকোচে নিজেদের ভাষা ব্যবহার এড়িয়ে চলে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন প্রবীণরাও। হাট-বাজার বা জনসমাগমে মাতৃভাষায় কথা বললে উপহাসের মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় আদিবাসী নেতা তুমুল বলেন, প্রতিটি গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় অন্তত একটি করে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হলে, শিশুরা তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে। এতে ভাষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং নতুন প্রজন্ম মাতৃভাষার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক এন্ড্রো সলোমার বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে ভাষা চর্চা কেন্দ্র স্থাপন এবং পাঠ্যপুস্তকে আদিবাসী ভাষা ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে এসব ভাষা পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন