সারজিস আলম

এনসিপির ওপর হামলায় বিএনপির নীরবতা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদের প্রমাণ

উপজেলা প্রতিনিধি, গোলাপগঞ্জ

এনসিপির ওপর হামলায় বিএনপির নীরবতা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদের প্রমাণ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন, এনসিপির ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় বিএনপির নীরবতা প্রমাণ করে, এসব হামলায় দলটির প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ মদদ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টায় সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, বিএনপি এনসিপির কণ্ঠরোধ করতে চায়। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে কথা বলতে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। অন্যথায় দলটি নিজেদের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পেছন থেকে আঘাত করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। তার ভাষায়, অতীতে আওয়ামী লীগের মধ্যে যে স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংস্কৃতি ছিল, বিএনপি যদি সেই পথেই হাঁটে, তবে এনসিপি তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, তিনি একসময় বলেছিলেন, ছাত্রদলে ছাত্রদের দেখতে চান, সন্ত্রাসীদের নয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, যদি আলাদাভাবে সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করতে চান, তাহলে সেটি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে করুন। কিন্তু ছাত্রদলের মাধ্যমে সন্ত্রাসী তৈরি করা হলে তা ছাত্রদল, বিএনপি এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতিকর হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানে গোলাপগঞ্জের সাত শহীদের প্রসঙ্গ তুলে সারজিস আলম বলেন, শহীদদের পরিবার তাদের প্রিয়জনদের আর কখনো ফিরে পাবে না। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করা। আগে সরকারি সেবা পেতে এসব পরিবারকে নানা হয়রানির শিকার হতে হতো, এখন যেন তারা সম্মান ও স্বস্তির সঙ্গে সব ধরনের সেবা পান।

তিনি আরও বলেন, শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন গভীর বেদনা নিয়ে জীবনযাপন করছেন। অনেক সময় তাদের শুনতে হয়, ‘এই আত্মত্যাগের কী দরকার ছিল, সব তো আগের মতোই রয়েছে।’ এমন পরিস্থিতি কখনোই প্রত্যাশিত ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সারজিস আলম বলেন, এনসিপি দেশে একটি স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি বলেন, এই দল কারও তোষামোদ করার জন্য গঠিত হয়নি; এটি তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর, যার জন্ম একটি গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এবং যে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটেছে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় সরকারি উদ্যোগে শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও সেখানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। বরং রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়। এছাড়া, শহীদ পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সমস্যায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে গেলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান পান না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অনেকেই আজ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন, সেই শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রাপ্য সম্মান, অধিকার ও সব ধরনের সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন