জগন্নাথপুরে বিপৎসীমার ওপরে কুশিয়ারার পানি

উপজেলা প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)

জগন্নাথপুরে বিপৎসীমার ওপরে কুশিয়ারার পানি
কুশিয়ারা নদীর পানিতে প্লাবিত জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ বাজারের একাংশের চিত্র।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে কুশিয়ারার পানি। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে আশারকান্দি, পাইলগাঁও ও রাণীগঞ্জ ইউনিয়নে বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী সড়কটি ভেঙে গেছে। এতে বালিশ্রী, রৌয়াইল, টেংরাখালি, হিলালপুর, মেঘারকান্দি ও হরিনাকান্দিসহ প্রায় ১২টি গ্রামের সড়কযোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে পাইলগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব জালালপুর গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে বাড়ি-ঘর ও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় বাসিন্দারা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। এছাড়া খানপুর, জালালপুর ও পুরাতন আলাগদি বেড়িবাঁধগুলো চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীনগরসহ বাঁধের বাইরের শতাধিক বসতবাড়ি ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে এবং কুশিয়ারা নদীর পানি উপচে রাণীগঞ্জ বাজারে প্রবেশ করায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

এদিকে জগন্নাথপুর-বেগমপুর সড়কের ভাঙ্গাবাড়ি এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে তীব্র স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পানির স্রোতের কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জগন্নাথপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ জানান, উজান থেকে নেমে আসা পানিতে নদী ও হাওরের পানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. ইসলাম উদ্দিন জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে প্রকল্প কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব দিয়ে একটি নতুন নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্টোল রুম) খোলা হয়েছে। জগন্নাথপুর পৌরসভায়ও একটি জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্টোল রুম) খোলা হয়েছে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...