সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। মৃত এক শিশু হবিগঞ্জ জেলার, আরেক শিশু সিলেট জেলার।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় আরো ৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩২১ জন রোগী চিকিৎসাধীন। ফলে কয়েক মাস ধরে চলা হাম পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় মোট ৯৮৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে মারা যাওয়া ১৩৮ জনের মধ্যে ছয়জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি ১৩২ জনকে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এদিকে, রোববার প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে সারা দেশের হাম পরিস্থিতিরও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়ে ৯০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে ৮০ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। আর ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৯ শিশু। সিলেট বিভাগে কয়েক মাস ধরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

