জীবিকার তাগিদে সুদূর কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান জিয়া। স্বপ্ন ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো ও স্বজনদের সচ্ছলতা ফেরানো। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অবসান ঘটল তার সেই প্রবাসজীবনের। মৃত্যুর ১২ দিন পর কুয়েত থেকে দেশে ফিরেছেন তিনি, তবে জীবিত নয়, ফ্রিজিং গাড়িতে নিথর দেহ হয়ে।
রোববার সকালে তার লাশ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের পরিবেশ। স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। মৃত জিয়াউর রহমান জিয়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর কুয়েতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। এর পর থেকেই প্রিয়জনের লাশের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে ১২ দিন পর সেই অপেক্ষার অবসান হলেও তা হয়ে আসে এক অসহনীয় বেদনার মুহূর্ত।
যে মানুষটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে হাজার হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তাকে শেষবারের মতো দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। তিন সন্তানের জনক জিয়াউর রহমানের এমন মৃত্যুতে পুরো পরিবার এখন দিশাহারা।
মরহুমের বড় ভাই ও স্থানীয় মিরপুর বাজারের ব্যবসায়ী সাজিদুর রহমান জানান, রোববার বাদ আসর আব্দুল্লাহপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।
জিয়াউর রহমানের অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যরা তার মাগফিরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

