সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্ত উপজেলা তাহিরপুরে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থানের মধ্যে ট্যাকেরঘাট পাথর কোয়ারী (নীলাদ্রি লেক) অন্যতম। ২০০০ সাল পরবর্তী সময়ে এ কোয়ারীর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে কখনো ‘বাংলার কাশ্মীর’, কখনো ‘নীলাদ্রি’ নামে পরিচিতি পায়।
লেকের নীল জলরাশি আর মেঘালয় পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ ভ্রমণপ্রেমীরা। লেকের নান্দনিকতা আরো বাড়িয়ে তুলতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল হাসেম সহস্রাধিক দেশি-বিদেশি ফুল গাছ রোপণ করেন। ভবিষ্যতে এ গাছগুলোর বাহারি নানা রঙের ফুল হয়তো ট্যাকেরঘাট পাথর কোয়ারী কিংবা নীলাদ্রি লেককে অন্যকোনো নামে চেনাবে।
সরেজমিনে লেকে দেখা যায় সারিবদ্ধ লাগানো পলাশ, জ্যাকারান্ডা, সোলালু, কাঞ্চন, রুদ্রপলাশ, চন্দ্রপ্রভা, কৃষ্ণচুড়া, কাটগোলাপ, শিমুলসহ নানা জাতের গাছ। গাছগুলোর পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন ট্যাকেরঘাট রেস্ট হাউজের কেয়ার টেকার মনির হোসেন।
তিনি জানান, গাছগুলো অনেক স্থান থেকে সংগ্রহ করে এনে লাগানো হয়েছে। গাছ বড় না হওয়া পর্যন্ত একটু দেখে শুনে রাখেতে হবে। যাহাতে গাছ গুলো নষ্ট না হয়।
ভ্রমন বিষয়ক পেজ ট্রাভেলার্স অফ বাংলাদেশ এর কর্নধার ট্যাভেলার তমাল আহমেদ টিপু জানান, প্রকৃতির বড় একটা অংশ হলো গাছ। গাছ ছাড়া প্রকৃতি পরিপূর্ণ হয় না। ট্যাকেরঘাট পাথর কোয়ারী বা নীলাদ্রী লেক এলাকায় গাছের সংখ্যা একেবারেই কম। পর্যটকরা রোদে ঘুরে ঘুরেই তার মুগ্ধতা উপলব্ধি করেন। গাছগুলো বড় হলে ছায়া সুনিবিড় একটা পরিবেশ হবে সেই সাথে লেকের পরিবেশটা আরো সুন্দর হবে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামন কামরুল বলেন, ২০১৭ সালে টাঙ্গুয়া হাওরে জোছনা উৎসবের মধ্য দিয়ে তাহিরপুরকে নতুন করে দেশের মানুষ চিনেছে। তেমনি ট্যাকেরঘাট লেইকে চারপশে লাগানো হাজারো বৃক্ষ জাতীয় ফুল গাছ বড় হলে সে ফুলের সৌন্দর্য নতুন করে আবার তাহিরপুরকে চেনাবে। আগামী প্রজন্ম নতুন করে চিনবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল হাসেম বলেন, প্রকৃতিগত ভাবে নীলাদ্রি লেকটা খুব সুন্দর। এ সৌন্দর্যকে আরও একটু প্রাণবন্ত রূপ দিতে দেশি-বিদেশি কিছু বৃক্ষ জাতীয় ফুল গাছ লাগানো হয়েছে। পর্যটকরা লেকের পাশাপাশি একদিন হাজারো গাছে বাহারি ফুলের উৎসবও উপলব্দি করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

