হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম গোছাপাড়া থেকে উঠে আসা মেয়ে শাম্মী আক্তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে পড়ার সময় স্বপ্ন দেখতেন পড়ালেখা শেষ করে ডিসি কিংবা সচিব হয়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সময়ের পরিক্রমায় মেধাবী সেই ছাত্রী নিজের নিশ্চিত ক্যারিয়ারের মায়া ত্যাগ করে বেছে নেন রাজপথের অনিশ্চিত ও কণ্টকাকীর্ণ রাজনীতি। সেই ত্যাগের প্রতিদান হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হওয়ার পথে শাম্মী আক্তার।
সোমবার বিএনপির ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ প্রার্থীর তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য এবং দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক এবং হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই তিনি ছাত্রজীবনেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তার সাহসী উপস্থিতি তাকে পরিচিতি দেয় ‘অগ্নিকন্যা’ হিসেবে।
এর আগে ২০০৮ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথমবার সংসদে গিয়েছিলেন শাম্মী আক্তার। সে সময় সংসদের ভেতরে তার তেজস্বী ও যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ আহমেদ বলেন, ‘শাম্মী আপা’ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলের চেয়ারম্যান ডেকে নিয়ে শান্ত্বনা দিয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফয়সলকে মনোনীত করেন। তবুও শাম্মী আপা হাল ছাড়েননি, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শাম্মী আপাকে মূল্যায়ন করেছেন। তার এই মনোনয়ন কেবল তার প্রাপ্য নয়, এটি চুনারুঘাট তথা হবিগঞ্জবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।’
শাম্মী আক্তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘দলের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা সব সময় নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছি। এই মনোনয়ন আমার জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি বড় এক দায়িত্ব। আমি আমৃত্যু দলের আদর্শ ও নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যেতে চাই।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

